নয়াদিল্লি: বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের পর থেকে বন্ধ ছিল পাক আকাশপথ। ভারতের কোনও বিমান পাক এয়ারস্পেস ব্যবহার করতে পারত না। আর তার জেরেই ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ভারতীয় এয়ারলাইনসগুলির। মঙ্গল থেকে পাকিস্তান তাদের এয়ারস্পেস খুলে দিয়েছে।

মোট ১৪০ দিন বন্ধ ছিল পাকিস্তানের আকাশপথ। আর এর জন্য এয়ার ইন্ডিয়ার প্রত্যেকদিন ৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে পাক এয়ারস্পেস বন্ধ থাকায় এয়ার ইন্ডিয়ার মোট ক্ষতি হয়েছে ৫৬০ কোটি টাকা। যার ফলে ২০১৮-১৮ অর্থবর্ষে এয়ার ইন্ডিয়ার ক্ষতির পরিবহন দাঁড়িয়েছে ৭৬০০ কোটি।

ক্ষতি হয়েছে অন্যান্য এয়ারলাইনসেরও। ইন্ডিগোর ক্ষতি হয়েছে ২৫.১ কোটি, স্পাইস জেটের ৩০.৭৩ কোটি ও গো এয়ারের ২.১ কোটি ক্ষতি হয়েছে। মাত্র পাঁচ মাসে ভারতীয় এয়ারলাইনসগুলির মোট ৬২০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

ভারতর সবথেকে বেশি মার্কেট শেয়ারের এয়ারলাইনস ইন্ডিগোর পাকিস্তানের ওই সিদ্ধান্তের জন্য দিল্লি থেকে ইস্তানবুল পর্যন্ত সরাসরি বিমান চালাতে পারেনি। আরব সাগরের উপর দিয়ে ঘুরপথে বিমান চালাতে হচ্ছিল।

মঙ্গলবার অসামরিক বিমান পরিবহণের জন্য নিজেদের আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দেয়। পাকিস্তান সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটির তরফ থেজে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছে৷ পাকিস্তানের সব ধরণের আকাশপথ ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বাইরের দেশগুলিকে৷ এর আগে, পাক আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে ইসলামাবাদকে আবেদন জানিয়েছিল নয়াদিল্লি৷ তবে সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি ইসলামাবাদ৷

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যদি সীমান্ত থেকে ভারত নিজেদের ফাইটার জেট ও সেনা ক্যাম্প সরিয়ে নেয়, তবেই পাক আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি মিলবে৷ তবে সেই প্রস্তাবে স্বাভাবিকভাবেই রাজি হয়নি ভারত৷

বালাকোটে পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার করেই জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়ে এসেছিল ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান৷ সেই রকম হামলা আবারও হতে পারে৷ এই আশঙ্কা থেকেই পাকিস্তান নিজের আকাশপথ ব্যবহার ভারতের জন্য বন্ধ করে দেয়৷ এক্ষেত্রে অসুবিধায় পড়ে ইউরোপ থেকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াগামী বিমানগুলি৷

আগে পাকিস্তানের আকাশ ছুঁয়ে কুয়ালালামপুরে চারটি বিমান যেত৷ ব্যাংকক ও নয়াদিল্লিতে আসত দুটি করে বিমান৷ পাকিস্তান তাদের আকাশপথ ব্যবহার করতে না দেওয়ায় এই রুটগুলিতে লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়৷ তার উপর যাত্রীও হারাতে হয়৷ মধ্যপ্রাচ্য থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাকিস্তানের আকাশপথ৷ তাই সেই আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়তে হয় বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্সগুলিকে৷

পাকিস্তান নিজের আকাশপথ ব্যবহার ভারতের জন্য বন্ধ করেছিল ফেব্রুয়ারি মাসে৷ বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার এয়ারস্ট্রাইকের পর থেকেই পাকিস্তান নিজের আকাশপথের ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে৷ ২৬ ফেব্রুয়ারি বালাকোটে জইশ-ই-মহম্মদের ক্যাম্পে ভারতীয় বায়ুসেনা এয়ারস্ট্রাইক করে৷ তবে ২৭ মার্চ সেই নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল করে পাক সরকার৷ কেবলমাত্র নয়াদিল্লি, ব্যাংকক ও কুয়ালালামপুর ছাড়া সব বিমান ওড়ার অনুমতি দেওয়া হয়৷