মুম্বই : যুদ্ধের আবহে পাকিস্তানের প্রতি এখনও ‘সহৃদয়’ ভারত। প্রতিবেশী হয়েও প্রতিবেশীর ব্যবহার কোনদিনই করেনি পাকিস্তান। বারবার হয়েছে জঙ্গি হামলা। উড়ে এসেছে বুলেট। মাঝে ঘটে গিয়েছে উরি হামলা। তবে এতকিছুর পরও ভারত ‘হৃদয়বান’। পাক যুবককে হৃদযন্ত্র দিতে চলেছে ভারত। ফিরিয়ে দিতে চলেছে পাক যুবকের প্রান।

বছর চব্বিশের তরুন মহম্মদ নাসির পাক পঞ্জাবের বাসিন্দা। হৃদযন্ত্রে গর্ত দেখা দিয়েছে এই তরুণের। সীমান্তের ওপারে জঙ্গিদের সুস্থ সবল রাখার অনেক ব্যবস্থা থাকলেও এই তরুণকে সুস্থ করে তোলার মতো চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। তাই পাক চিকিৎসকরাই জানিয়ে দেন এমন অবস্থায় “শত্রু” ভারতের দ্বারস্থই হতে হবে তাঁদের।

অগত্যা ২ মাস আগে বাবা মায়ের সঙ্গে মুম্বই এসে পৌঁছয় নাসির। এখন সে চিকিৎসাধীন আন্ধেরির কোকিলাবেন ধীরুভাই অম্বানি হাসপাতালে। হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন করতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। দরকার লাংসের একটি অস্ত্রোপচারও। সব মিলিয়ে এখন ভারতের হৃদয় প্রার্থী পাক যুবক। ভারতীয়র ডোনারের সবকিছু খতিয়ে দেখেই তবেই হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন করা হবে নাসিরের শরীরে।

নাসিরের এমন অসুখ ধরা পড়ে গত বছরে। হঠাৎ করেই মুখ রক্তবমি হতে শুরু করে তার। তারপরেই পাক চিকিৎসালয়ে দেখালে এই দুঃসংবাদটি নাসিরের অভিভাবকদের দেন তাঁরা। এখন শরীরের অবস্থা খুবই খারাপ নাসিরের। এক পা হাঁটলেই শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যাচ্ছে। আন্ধেরির ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন নাসিরের হৃদপিণ্ডের ডান অলিন্দটি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে খরচা পড়বে ৫২ লক্ষ টাকা। এই টাকার ব্যবস্থা করতে শুরু করে দিয়েছে পাক সরকার। এবার ওই টাকা এসে পৌঁছলেই চটজলদি অস্ত্রোপচার হয়ে যাবে নাসিরের।

ছেলের সুস্থ হওয়ার অপেক্ষাতেই রয়েছেন বাবা ইক্রাম আলি। প্রার্থনা করে এসেছেন দরগাতে। তবে ভারতের এমন ভালোবাসায় আপ্লুত পাক যুবকের পিতা। ভারতের উপর পাক জঙ্গিদের হামলার জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশও করেন। ইক্রামের কাছে এখন একই বৃন্তে দুইটি কুসুম ভারত পাকিস্তান। ‘হৃদয়বান’ ভারতকে এখন নিজের দ্বিতীয় ঘর বলেই মনে করছেন তিনি।