নয়াদিল্লি: স্ত্রীকে আত্ম্যহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে এইমসের এক চিকিৎসককে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ। মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতেই ওই ডাক্তারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গুরুগ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার। পরিবারের অভিযোগ স্ত্রীর উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করত অভিযুক্ত।

সেই চাপ না নিতে পেরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন বছর ২৯-এর ওই তরুণী। অ্যানাসথেটিক ড্রাগস অত্যধিক পরিমাণে গ্রহণ করেই ড্রাগ ওভারডোজে মৃত্যু হয় তার। পুলিশ সূত্রে খবর মৃতার পিতা অভিযোগ জানিয়েছেন তরুণীর শাশুড়ি-সহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যরা তাঁকে মারধর করত। ঘটনার দিন এই ধরনের ড্রাগস অভিযুক্ত জোর করে তরুণীকে খাইয়ে দেন বলেও অভিযোগ করেছ্বেন মৃতার বাবা।

পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত মহিলা রাজস্থানের কোটার বাসিন্দা। চলতি বছরের মে মাসে তাঁর বিয়ে হয়। তিনিও প্রথমে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সে(এইমস্‌) কাজ করতেন, পরে তিনি গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে যোগ দেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিও আদতে কলকাতার বাসিন্দা। তিনিও এইমস্‌-এর চিকিৎসক।

স্বামীর তুমুল অত্যাচারের ফলে গত কয়েকমাস ধরে এইমসের গত রবিবার থেকেই নিজেকে ঘরবন্দি করে রেখেছিলেন ওই তরুণী। সোমবারেও দরজা না খোলায় খবর যায় পুলিশের কাছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দরজা ভেঙে রক্তাক্ত অবস্থায় তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পাশেই পড়ে থাকতে দেখা যায় বেশ কিছু অ্যানাসথেটিক ড্রাগসের খালি শিশি।

এই প্রসঙ্গে দিল্লি পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার প্রীত পাল বলেন, ‘মৃতার অভিযুক্ত এইমসের চিকিৎসক। তিনি এবং তাঁর স্বামীর মধ্যে ঝামেলা থাকায় এখন একাই থাকতেন। গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করতেন তিনি।’

মৃতার বাবার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে নানা ভাবে নির্যাতিতা হতেন ওই তরুণী। মৃতার স্বামী মাদকের নেশাও করতেন বলে অভিযোগ জানান তিনি। এই নেশায় বাধা দিলেই তরুণীর উপর মারধর চলত।

গত সোমবার তরুণীর হোস্টেল থেকে একটি ফোন আসে। রবিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত দরজা না খোলায় মৃতার বাবাকে দ্রুত ডেকে পাঠান নিরাপত্তারক্ষীরা। খবর যায় পুলিশে। এরপরেই দরজা ভেঙে মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, ‘অভিযুক্ত এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্ত এবং তার পরিবারের সদস্যদের শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে।’