রাঁচি: বিশাখাপত্তনম ও পুণেতে হেরে ইতিমধ্যেই টেস্ট সিরিজ খোয়াতে হয়েছে। রাঁচিতে শনিবার থেকে শুরু হতে চলা তৃতীয় টেস্ট জিতে কিছুটা সম্মান পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় দক্ষিণ আফ্রিকা শিবির। কিন্তু সিরিজের অন্তিম টেস্ট শুরুর আগে ফের ধাক্কা প্রোটিয়া শিবিরে। কাঁধের চোটে স্পিনার কেশব মহারাজ ছিটকে গিয়েছিলেন আগেই এবার কবজির চোটে রাঁচি টেস্ট থেকে ছিটকে গেলেন ওপেনিং ব্যাটসম্যান এইডেন মার্করাম।

তবে তাঁর এই চোটের জন্য দায়ী মার্করাম নিজেই। নিজের ব্যাটিং পারফরম্যান্সে অখুশি হয়ে পুণে টেস্ট চলাকালীনই ড্রেসিংরুমে কোনও ভারি জিনিসে ঘুষি চালিয়েছিলেন এই প্রোটিয়া ওপেনার। আর হতাশার ঘুষি চালিয়েই তৃতীয় টেস্ট থেকে ছিটকে গেলেন মার্করাম। তবে ঠিক কোন জিনিসে আঘাত করেছিলেন তিনি, সে বিষয়ে স্পষ্ট এখনও কিছু জানা যায়নি। এমনকি রাঁচি টেস্টের জন্য মার্করামের পরিবর্ত হিসেবে কোনও ব্যাটসম্যানকে এখনও অবধি ডেকে পাঠানো হয়নি প্রোটিয়া শিবিরের তরফ থেকে।

উল্লেখ্য, বিশাখাপত্তনম টেস্টের দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৫ ও ৩৯ রান করার পর পুণে টেস্টের দুই ইনিংসের একটিতেও রানের খাতা খুলতে পারেননি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম সারির ব্যাটিং অর্ডারের স্তম্ভ। আর সেই কারণেই পুণে টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হওয়ার পর ড্রেসিংরুমে ঢুকে হতাশার বহিঃপ্রকাশ ঘটান এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান। ঘটনায় মার্করামের কবজিতে চিড় ধরেছে বলে জানান দক্ষিণ আফ্রিকা দলের চিকিৎসক হষেন্দ্র রামজি। আর সেই কারণেই পুণে টেস্টে দলের বাইরে রাখা হয়েছে তাঁকে। দেশে ফিরে মার্করামকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গেও পরামর্শ করার কথাও জানানো হয়েছে।

আর তৃতীয় টেস্ট থেকে ছিটকে গিয়ে মার্করাম জানান, ‘এভাবে দেশে ফিরে যাওয়াটা ভীষণই দুঃখের। তবে যা ঘটেছে তার সম্পূর্ণ দায়ভার আমার। সিরিজের মাঝপথে দলকে এভাবে বিপদে ফেলে চলে যাওয়ার বিষয়টি আমায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে।’ তাঁর আরও সংযোজন, হারতে হলেও ভারতের মাটিতে চলতি টেস্ট সিরিজ থেকে তিনি ও তাঁর দলের ক্রিকেটাররা অনেককিছু শিখেছে। পাশাপাশি মার্করাম বলেন, ‘বাইশ গজে এমন অনেক সময় আসে যখন আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না। আমার হতাশার বহিঃপ্রকাশ ঠিক সেই কারণেই। তবে সেটা কোনও অজুহাত নয়।’