ফাইল ছবি৷

দেবযানী সরকার, কলকাতা: সিপিএমের সঙ্গে জোট জোট খেলা অনেক হয়েছে। আর নয়। শনিবার প্রদেশ কংগ্রেসের নির্বাচনী কমিটির বৈঠকে এটাই হল নির্যাস। আর সেই নির্যাস রবিবার বিকেল চারটের সময় দলের সর্বভারতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধীকে টেলিফোনে জানিয়ে দেবেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র।

সিপিএমের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে ১৯’ এর লোকসভা ভোট উতরে দিতে চেয়েছিলেন সোমেন মিত্ররা। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় দলের নির্বাচনী কমিটির বৈঠকে সব হিসেব পাল্টে গেল। এতদিন প্রদেশের যে নেতারা মোটামুটি জোটের পক্ষে ছিলেন এদিন তাঁরাও মত পাল্টে নিলেন। এককথায় শুক্রবার প্রকাশিত বামফ্রন্টের প্রার্থীতালিকা দেখার পর প্রদেশ কংগ্রেসের নেতারা জোটে রুচি হারালেন।

 

এদিন বৈঠকে জোট নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দীপা দাসমুন্সি। সূত্রের খবর, তিনি বৈঠকে বলেন কেন আমরা এত মিটিং করছি। এত মিটিং করার দরকার নেই। দিল্লিকে জানিয়ে দিন আমি জোট চাই না, রায়গঞ্জেই প্রার্থী হতে চাই। এবং সেখানে জেতার মতো জায়গায় আছি। এদিন বৈঠকে ছিলেন না আব্দুল মান্নান, অধীর চৌধুরী। মান্নানকে ফোনে ধরা হলে তিনিও জোটের বিপক্ষে কথা বলেন।

বৈঠকে উপস্থিত ১৬ জন সদস্যের মধ্যে ৯৫ শতাংশই সিপিএমের শর্তে জোটে রাজি নেই বলে খবর।বৈঠকের পর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রও বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি এব্যাপারে ভীষণ বিরক্ত। সোমেন মিত্র বলেন, বামফ্রন্ট নীতিগতভাবে জোট করেনি। আমরা দিল্লিকে জানাচ্ছি। এবার তারা যা সিদ্ধান্ত নেবে।

এতদিন নরম-গরমে দু দলের মধ্যে আসন নিয়ে আলোচনা চলছিল। তারমধ্যেই শুক্রবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে সিপিএম ও তার শরিকরা। একেই রাহুল গান্ধীর ইচ্ছায় রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ সিপিএমকে ছাড়তে হয়েছে। তারউপর পছন্দের আসন পুরুলিয়া, বসিরহাটে প্রার্থী দিয়েছে সিপিএমের শরিকদলরা। এতেই ক্ষেপে গিয়েছেন সোমেন মিত্ররা। সূত্রের খবর, প্রদেশের তরফ থেকে রাতেই এআইসিসিকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এর পরও জোট হলে সব দায় এআইসিসির।

এদিন বৈঠকে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে, পুরুলিয়া-বসিরহাটে কংগ্রেস এক লড়বে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে পুরুলিয়ায় নেপাল মাহাত ও বসিরহাটে কাজী আব্দুল রহিমের নাম ঠিক হয়েছে। তবে শুধু এই দুটি আসন নয়, শনিবার রাতের পরিস্থিতি অনুযায়ী, ৪২ আসনেই প্রার্থী দিচ্ছে কংগ্রেস। রবিবার বিকেলের মধ্যেই সব ছবি পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে খবর।