নয়াদিল্লি: কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে রাহুল গান্ধীর ইস্তফা দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এমনই মনে করেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা তথা গান্ধী পরিবারের দীর্ঘদিনের কাছের লোক আহমেদ প্যাটেল।

গত কয়েকদিন ধরে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর থাকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বুধবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, “বিলম্ব না করে খুব শীঘ্রই কংগ্রেস পার্টি নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা করবে।” এই নতুন সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই তিনি থাকবেন না বলে জানিয়েছেন রাহুল।

এদিন রাহুল গান্ধী খুব স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান জানিয়েছিন। ট্যুইটারেও তাঁর কংগ্রেস সভাপতির পদাধিকারের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন। নতুন সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই তিনি থাকবেন না বলে জানিয়েছেন রাহুল। তাঁর কথায়, “ইতিমধ্যেই আমি আমার পদত্যাগপত্র দলের কাছে জমা দিয়েছি। এবং আমি আর কংগ্রেসের সভাপতির পদে নেই।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি নতুন সভাপতি নির্বাচনের বিষয়ে শীঘ্রই বৈঠক করবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”

এই বিষয়ে আহমেদ প্যাটেল বলেছেন, “রাহুল গান্ধীর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য আমারা সকলেই সমানভাবে দায়ী।” দলের সদ্য প্রাক্তন সভাপতির প্রশংসা করে তিনি আরও বলেছেন, “অল্প সময়ের মধ্যে রাহুল গান্ধী দলের জন্য অনেক করেছেন। তিনি দলের জন্য অনেক করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।”

সবশেষে রাহুল গান্ধীর সম্পর্কে নিজের মনের কথা তুলে ধরেছেন আহমেদ প্যাটেল। তিনি বলেছেন, “এখনও রাহুল গান্ধীকেই আমি আমার নেতা বলে মনে করি। তিনিই আমাদের নেতা আছেন এবং থাকবেন। তাঁর নেতৃত্বেই কংগ্রেস আরও শক্তিশালি হয়ে উঠবে।”

রাহুল গান্ধী সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন নির্বাচনে পরাস্ত হয়েছে কংগ্রেস। একের পর এক রাজ্য হাতছাড়া হয়েছে কংগ্রেসের হাত থেকে। দেশ জুড়ে উত্থান হয়েছে বিজেপির। ক্রমেই তা গেরুয়া ঝড়ের আকার নিয়েছে। এই অবস্থায় গত বছরের তিন বিজেপি শাসিত রাজ্য দখল করেছে কংগ্রেস। এক বছর আগে দক্ষীণের রাজ্য কর্ণাটকেও জেডিএস দলের সঙ্গে জোট গঠন করে সরকার গড়েছে কংগ্রেস।

কিন্তু সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে পাস করতে পারেননি রাহুল গান্ধী। দীর্ঘ দিনের গড় আমেঠি কেন্দ্রটিও হাতছাড়া হয়েছে কংগ্রেস তথা গান্ধী পরিবারের। উলটে আগের থেকেই বেশি আসন নিয়ে কেন্দ্রে সরকার গড়েছে বিজেপি। এরপরেই কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী।