দেবযানী সরকার, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বান জল ধরো জল ভরো। অর্থাৎ বৃষ্টির জলকে সংরক্ষণ করার উদ্যোগ।  বহু বহু বছর আগে গুজরাতের এক রানি জল সংরক্ষণ করতে কোমর কষে নেমেছিলেন। আহিরিটোলা সার্বজনীন সমিতির মণ্ডপে সেই প্রাচীন জল সংরক্ষণের চেষ্টা উঠে আসছে। এবছর তাদের থিম ‘অজান্তে’।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জলের সঙ্কট। পানীয় জলের হাহাকার। ফুরিয়ে যাচ্ছে ভুগর্ভস্থ জল। বিজ্ঞানীদের আশংকা, ২০৩০ সালের পর জলশূন্যতায় ভুগবে মানুষ। তাই এবার পুজোয় জল সংরক্ষণের বার্তা দিতে গুজরাতের বিখ্যাত ‘রানি কি ভাব’ জলাধার বানাচ্ছে আহিরিটোলা সার্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি। কারণ, জল সংরক্ষণের অন্যতম একটা উদাহরণ এই জলাধার বা কুয়ো।

‘ভাব’ মানে ধাপে ধাপে সিঁড়ির মতো নেমে যাওয়া যায় এমন কুয়ো। ১০৫০ খ্রিষ্টাব্দে গুজরাতের রাজা ভীমদেবের স্ত্রী উদয়মতী এই কুয়ো তৈরি করান। জল সংকটের কারণে তৈরি এই বিশাল জলাধারটি বিস্ময়।

রাজা ভীমদেবের স্ত্রী রানী উদয়মতী সরস্বতী নদীর ধারে এই ‘ভাব’ নির্মাণ করেন। গ্রীষ্মের জল সংকটের মোকাবিলায় তৈরি হয়েছিল ৬৪ মিটার লম্বা, ২০ মিটার প্রস্থ এবং ২৭ মিটার গভীর কুয়ো। এই স্থাপত্য দেশের অন্যতম পর্যটন ক্ষেত্র।

আহিরিটোলা সার্বজনীনের দুর্গা প্রতিমা পূজিত হবে এই ‘রানি কি ভাব’ এর ভিতরেই। মণ্ডপটি তৈরি করছেন প্রখ্যাত আর্ট ডিরেক্টর তন্ময় চক্রবর্তী।

শিল্পী জানিয়েছেন, মণ্ডপের ভিতরে একটি বিশাল জলাধার তৈরি হচ্ছে। পুরো মণ্ডপটাই প্লাস্টার অফ প্যারিসের। সম্পূর্ণ পাথর দিয়ে তৈরি হচ্ছে দেবী প্রতিমা। ২০ টনের এই পাথর প্রতিমা মণ্ডপের অন্যতম আকর্ষণ।

তিনি জানিয়েছেন, থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই গোটা মণ্ডপকে প্রদীপের আলোয় সাজানো হবে। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজবে জল দেবতা বরুণদেবের স্তোত্র।

গত বছর রাজবাড়ি তৈরি করে দর্শনার্থীদের মন ছুঁয়ে গিয়েছিল আহিরিটোলা। সেই রাজবাড়িরও শিল্পী ছিলেন তন্ময় চক্রবর্তী।

৮০ বছর পূর্তিতে আহিরিটোলার ‘রানি কি ভাব’ দর্শনার্থীদের আরও একবার মন জয় করবে বলে দাবি পুজোর উদ্যোক্তাদের।