ফাইল ছবি

দেবযানী সরকার, কলকাতা: একসঙ্গে দুদল লড়বে কি ? এই প্রশ্নের উত্তরটাই জানেন না একদা সাপে-নেউলে সম্পর্কের এখনকার ‘ভোট মিত্র’ বাম-কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা৷ লোকসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের দুই সাবেক শাসক দল একসঙ্গে ভোট লড়াইয়ে নামার পথ খুঁজতে মরিয়া৷ সব মিলে লোকসভার ঘোলা জলে হাবুডুবু খাচ্ছে বামফ্রন্ট-কংগ্রেসের আসন সমঝোতা৷ কোন দল কটা আসনে লড়বে তা এখনও ঠিক নয়৷

সিপিএম-কংগ্রেস নেতাদের মনেও সন্দেহ রয়েছে লোকসভা ভোটে আদৌও দুই দল একসঙ্গে লড়বে কিনা৷ এই জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আগেভাগেই বিধান ভবনের কর্তাদের তিন-তিনটে শর্ত দিয়ে বসলেন আলিমুদ্দিনের কর্তারা৷ যা শুনে রীতিমতো হতবাক বামেদের ‘হাত প্রার্থী’ কংগ্রেস৷

আসন ভাগাভাগির নিষ্পত্তি করতে চলতি সপ্তাহে বুধবার বৈঠকে বসেছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র ও সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র৷ সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে সূর্যবাবু তিনটি শর্ত দিয়েছেন সোমেনবাবুকে৷

এক-যদি ভোটে দুই দল একসঙ্গে লড়াই করে তাহলে কোথাও জোট শব্দটি উল্লেখ করা যাবে না৷

দুই-কেন্দ্রীয়ভাবে দুই দল প্রচার করবে না

তিন-২০২১ পর্যন্ত এই সমঝোতা হবে না৷

এই তিনটি শর্ত শুনেই প্রদেশ কংগ্রেসের নেতাদের প্রশ্ন, সিপিএম কি সত্যিই সিরিয়াস একসঙ্গে লড়াই নিয়ে৷ আসন রফা নিয়ে আলোচনায় কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করা বর্ষীয়ান প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, এভাবে কি একসঙ্গে লড়াই করা যায়? কেন্দ্রীয়ভাবে যদি দুই দল প্রচার না করে তাহলে ভোটারদের কাছে কি বার্তা যাবে?

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় এক ফ্রেমে দেখা গিয়েছিল রাহুল গান্ধী-বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে৷ রাহুল-বুদ্ধর গলাগলি ছবি সিপিএমের কেরল লবির নেতারা মেনে নিতে পারেননি৷ ক্ষোভ ছড়িয়েছিল বামেদের ত্রিপুরার ‘কমরেড’ মহলে৷ এই দুই রাজ্যেই বামেরা কংগ্রেসের প্রতিপক্ষ৷

তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা৷ গত বিধানসভা নির্বাচনে জোটের পক্ষে থাকলেও সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি কিন্তু সিঙ্গুরের জনসভায় অদ্ভুত আচরণ করেন৷ সেখানে অধীর চৌধুরী বক্তব্য রাখার সময় ইয়েচুরি মঞ্চ থেকে অনেকটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন৷ অধীর নামার পর তিনি মঞ্চে উঠেছিলেন৷

আবার সিপিএমের শীর্ষ মহলে ইয়েচুরি এবারও জোট করার পক্ষে থাকলেও চিরাচরিত পথে প্রকাশ কারাত শিবির তার বিরোধী৷ সেই রেশ ধরে কেরল ও ত্রিপুরায় বামেরা এবারও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে৷ যদিও ত্রিপুরায় বামেদের মূল লড়াই ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে৷

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আসন সমঝোতা নিয়ে হাজারো ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে আগে থেকে সতর্ক থাকতে চাইছে সিপিএমের বঙ্গ লবি৷ তাই তারা নিয়েছে শর্তের ঢাল৷ সেই ঢালে কংগ্রেস কতটা আটকাবে সেটা জানা যাবে শনিবার৷