ওয়াশিংটন: মোদী সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ভারত সফরে আসছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেও। ভারত সফরের আগে তাঁর মুখে শোনা গেল বিজেপির জনপ্রিয় স্লোগান, ‘মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়।’

বুধবার ইউএস-ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিলের বিশেষ সম্মেলনে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ক্যাম্পেনে বলেছেন, মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায় অর্থাৎ মোদীর পক্ষে সবই সম্ভব। তাই ভারত ও আমেরিকার মধভে কী কী সম্ভাবনা আছে, সেটাই আমাদের নজরে থাকবে।’

ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক যাতে ত্বরান্বিত হয়, তার জন্য বিশেষ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে মাইক পম্পেও। একইসঙ্গে ভারতের নয়া বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দেখা করার জন্যও তিনি বিশেষ উৎসাহী বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মানুষের ভালোর জন্য একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশ যৌথ উদ্যোগ নেবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। শুধু ভারত নয়, শ্রীলঙ্কা, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও সফর করবেন ট্রাম্পের এই সহযোগী।

জি-২০ সম্মেলনের ঠিক আগেই ভারতে আসছেন মার্কিন বিদেশসচিব। ২৪ জুন তিনি আমেরিকা থেকে রওনা হবেন। এই সফরকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন তিনি। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ট্রাম্পের যে নীতি, সেটা সঠিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই সফরের মূল লক্ষ্য।

আর ভারতের কাছেই মার্কিন বিদেশ সচিবের এই সফরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আর ট্রাম্পের একাধিক নিষেধাজ্ঞায় প্রভাব পড়েছে ভারতে। ইরান থেকে তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে এদেশে। রাশিয়া থেকে অস্ত্র কেবার ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ওয়াশিংটন। আর রাশিয়া থেকে বরাবরই অস্ত্র আমদানি করে থাকে ভারত। তাই এই সফরে যে বৈঠক হবে, তাতে বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলবে দুই দেশ।

এই সামিটে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন বিদেশ সচিব৷ সেখানেও আসন্ন ভারত সফর নিয়ে কথা হতে পারে৷

অর্থনৈতিক লেনদেন এই সফরের মূল আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে৷ তবে এরই সঙ্গে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের নয়া সমীকরণ গড়ে উঠুক, সেই আশাও করছে ওয়াশিংটন।

জি২০ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মাইক পম্পেওর৷ জাপানের ওসাকায় জুন মাসের ২৮-২৯ তারিখে এই সম্মেলন হবে৷ এই প্রথমবার জাপানে বসছে জি-২০ সম্মেলনের আসর৷ এই সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসতে পারেন পম্পেও৷ উত্তর কোরিয়া পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা হতে পারে দুই দেশের৷ এক যোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান উত্তর কোরিয়াকে এই ইস্যুতে ফের অনুরোধ জানাতে পারে৷ এই সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনের সাথে বৈঠকে বসতে পারেন পম্পেও৷