বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) :মহকুমা তো রয়েছে, কিন্তু কৃষি বিভাগ ছড়িয়ে তারই মধ্যে। ফলে তৈরি হচ্ছে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা। সেটা কাটাতেই দুটি মহকুমায় কৃষি দফতরকে ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ হচ্ছে জোরালো।

সোমবার মুখ্যমন্ত্রী বর্ধমানে প্রশাসনিক সভা করতে আসছেন। সেই প্রশাসনিক সভায় এব্যাপারে কোনও আলোচনা হয় কিনা তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন কৃষি দফতর।প্রশাসনিক মহকুমা হিসাবে বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমার অধীনে রয়েছে বর্ধমান সদর ১ ও ২নং ব্লক, ভাতার, আউশগ্রাম ১ ও ২ এবং গলসী ২ নং ব্লক। আর বর্ধমান দক্ষিণ মহকুমার মধ্যে রয়েছে মেমারি ১ ও ২, জামালপুর, রায়না ১ ও ২ এবং খণ্ডঘোষ ব্লক।

কিন্তু কৃষি দফতরকে মোট ১৩টি ব্লককে নিয়েই বর্ধমান মহকুমা হিসাবে কাজ করে যেতে হচ্ছে। এই জটিলতা কাটাতে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া চিঠি লিখেছেন কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সভাধিপতি জানিয়েছেন, প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে বর্ধমান মহকুমাকে বর্ধমান সদর উত্তর ও দক্ষিণ মহকুমায় ভাগ করা হয়েছে। সেইরকম জেলা কৃষি দফতরের কাজের জটিলতা কমাতে দুটি মহকুমায় ভাগের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে কৃষি মন্ত্রীকে। এর ফলে কৃষি দফতরের কাজের অনেক সুবিধা হবে।

২০১৭ সালে বর্ধমান জেলাকে ভেঙে তৈরি হয় পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান। মূলত কৃষিভিত্তিক এলাকা নিয়ে তৈরি হয় পূর্ব বর্ধমান জেলা। আর খনি-শিল্পাঞ্চল এলাকা নিয়ে তৈরি হয় পশ্চিম বর্ধমান।
পূর্ব বর্ধমানের প্রশাসনিক কেন্দ্র বর্ধমানের দুটি মহকুমা- সদর উত্তর ও দক্ষিণের মতো কৃষি দফতরে অধীনেও দুটি মহকুমা গঠনের দাবি উঠতে শুরু করে।

জেলা কৃষি দফতর সূত্রে খবর, পূর্ব বর্ধমানে মোট ৪ লক্ষ ৭৫২ হেক্টর কৃষি জমির মধ্যে চাষযোগ্য জমি ৪ লক্ষ ৩৭ হাজার হেক্টর। আর কৃষি দফতরের বর্ধমান মহকুমার অধীনে রয়েছে ২ লক্ষ ৫৫হাজার ৫২০ হেক্টর কৃষিজমি। তার মধ্যে চাষ হয় ২ লক্ষ ৪৮ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে।
কৃষকদের সুবিধার জন্য কৃষি পেনশন খেকে কিষাণ ক্রেডিট কার্ড, আরকেভিওয়াই, এসডিআরএফ, এনএফএসএম একাধিক প্রকল্পের কাজও চলছে। কিন্তু দুটি কৃষি দফতর দুটি মহকুমায় মিশে থাকায় ক্রমশই চাপ বাড়ছে।

জেলা যুগ্ম কৃষি আধিকারিক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই কৃষির কাজ সুষ্ঠুভাবে করার জন্য কৃষি দফতরের ডিরেক্টর সহ কৃষি প্রশাসনিক মহকুমা হিসাবে দুটি মহকুমায় ভাগ করার জন্য আবেদন জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এখনও তা পূরণ হয়নি। এতে কাজেরও অনেক সুবিধা হবে।জগন্নাথবাবু জানিয়েছেন, প্রশাসনিক বিভাজনের মতই কৃষি দফতরকে দুটি মহকুমায় ভাগ করার জন্য জেলা পরিষদের সভাধিপতি উদ্যোগ নেওয়ায় তাঁরা খুশি।