শংকর দাস, বালুরঘাট: সর্ষে চাষে নতুন পদ্ধতির আবিষ্কারে সারা ফেলে দিয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের কৃষি বিজ্ঞানীরা। ‘মাইক্রো-পট’ নামক নতুন এই পদ্ধতিতে স্বাভাবিকের থেকে অনেক কম সময়ে এবং স্বল্প খরচে অধিক ফলন পাওয়া যাচ্ছে। পরিক্ষামূলক ভাবে এই পদ্ধতির প্রয়োগে ইতিমধ্যেই সর্ষে চাষে উৎসাহ বেড়েছে জেলার কৃষকদের মধ্যে।

সাধারণ পদ্ধতিতে, ধান কাটার পর জমি তৈরি করে তবেই সর্ষে চাষ শুরু করতে হয় কৃষকদের। যে কারণে ফলন পেতে অনেক দেরি হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এতে রোগপোকার আক্রমণের সম্ভাবনাও বেশি থাকে। দক্ষিণ দিনাজপুরের কৃষি গবেষনাগারের বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত নতুন পদ্ধতিতে এখন সময় ও খরচ যেমন বাঁচবে। তেমনই পোকামাকড়ের আক্রমণে সর্ষের ক্ষতিও আর হবে না বলে দাবি বিজ্ঞানীদের।

মাঝিয়ান কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ডঃ জ্যোতির্ময় কারফর্মান জানিয়েছেন, ‘মাইক্রো-পট’ নামক নতুন পদ্ধতিতে জমিতে ধান বা অন্যান্য ফসল থাকালীন অবস্থাতেই কৃষক তাঁর বাড়িতে বা আলাদা জমিতে ছোট ছোট টবে সর্ষের বীজ বুনে চারা তৈরি করে ফেলবেন। পরে ধান বা ফসল কেটে নেওয়ার পর জমি তৈরি করে টব থেকে অতি সহজে চারা বুনে দিতে হবে। এতে জমি তৈরির আগেই টবে সর্ষে চারা বেড়ে উঠতে শুরু করবে। চারা রোপণের পর অল্প দিনেই সর্ষের ফলন শুরু হয়ে যাচ্ছে। অল্প দিনে ফলন পাওয়া যাচ্ছে। মাইক্রো-পট পদ্ধতিতে সাধারণ উপায়ের চাইতে সর্ষের ফলন অনেক বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

এই বিষয়ে কৃষি সহ-অধিকর্তা জ্যোতির্ময় বিশ্বাস জানিয়েছেন, গত বছর দক্ষিণ দিনাজপুরে মোট ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে সর্ষের ফলন হয়েছিল। ফসল উৎপাদনের পরিমান ছিল ৮০হাজার মেট্রিক টন। সাধারণ পদ্ধতিতে হেক্টর প্রতি ১৮হাজার মেট্রিক টন ফলন পাওয়া গেলেও। মাইক্রো পট পদ্ধতিতে হেক্টর প্রতি প্রায় ২৫হাজার মেট্রিক টন সর্ষে পাওয়া যাচ্ছে। রোগ পোকামাকড়ের আক্রমণের থেকেই রেহাই মিলছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।