আগ্রা: মর্মান্তিক! টাকা না পেয়ে হাসপাতালে জায়গা দেওয়া হল না প্রসূতিকে৷ বাধ্য হয়ে রাস্তাতেই প্রসব হল শিশুর৷ এমনই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল আগ্রাতে৷ প্রসব করানোর জন্য ঘুষ চেয়েছিল নার্স৷ কিন্তু পরিবারের আর্থিক অনটনের জেরে সেই দাবি পূরণ করা যায়নি৷ তাই জায়গাও হয়নি হাসপাতালে৷

প্রসব বেদনা নিয়ে রাস্তাতেই ঠাঁই হয় প্রসূতির৷ সেখানেই জন্ম নেয় দম্পতির সন্তান৷ এমনই অমানবিক ছবি উত্তরপ্রদেশের হেল্থ সেন্টারের৷ যেখানে সস্তায় চিকিৎসা পাওয়ার আশায় আসেন দরিদ্র মানুষ৷ কিন্তু কী ব্যবহার পান তাঁরা? এই ঘটনা সেই ছবিকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে৷

আগ্রার রুনকাটা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েছিলেন ওই গরিব দম্পতি৷ সেখানে প্রসব করানোর জন্য মোট টাকা ঘুষ চান কর্তব্যরত নার্স৷ স্বাভাবিকভাবেই চাহিদা মত সেই টাকা মেটাতে পারেননি ওই দম্পতি৷ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয় তাঁদের৷ রাস্তাতেই পুত্রসন্তানের জন্ম দেন মহিলা৷ আগ্রা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷

আরও পড়ুন : এনসেফেলাইটিস ইস্যু: নীতিশ কুমারের পদত্যাগ দাবি বিক্ষোভকারীদের

আগ্রার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা: মুকেশ বাতসা জানান অভিযুক্ত নার্স সরিতা সিংকে সাসপেণ্ড করা হয়েছে৷ কর্তব্যরত চিকিৎসক সুপ্রিয়া জৈন ও ফার্মাসিস্ট সনু গোয়েলকেও বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে৷ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আগ্রার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক৷

আগ্রার লখনপুর গ্রামের বাসিন্দা নয়না দেবী ও তাঁর স্বামী শ্যাম সিং জানান, সকাল ৭টার সময় প্রসব বেদনা ওঠে৷ সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়৷ কিন্তু ভরতি নেওয়ার বদলে ওই নার্স টাকা চাইতে শুরু করে৷ টাকা নেই বললে, স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয় ওই অসহায় দম্পতিকে৷ নার্সকে বারবার অনুরোধ করলেও কর্ণপাত করেনি সে৷

নার্সকে এও বলা হয়, যেন জেলা হাসপাতালে ফোন করে একটা অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়৷ নয়তো প্রসূতিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না৷ তাতেও রাজি না হয়ে ওই দম্পতিকে ১০২ নম্বরে ফোন করতে বলে ওই নার্স বলে অভিযোগ, পাশাপাশি, অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়৷

আরও পডুন: বিধান ভবনের নিরামিষ খাবারে মাংস, তদন্তের নির্দেশ মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর

বাধ্য হয়েই অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে হাঁটতে শুরু করেন শ্যাম সিং৷ কিন্তু কিছুদূর গিয়েই রাস্তায় যন্ত্রণা নিয়ে বসে পড়েন নয়না দেবী৷ সেখানেই পুত্র সন্তানের জন্ম দেন তিনি৷ স্থানীয় মহিলারা সাহায্য করেন তাঁকে৷

এই ঘটনার পরে রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সমাজকর্মী বিজয় উপাধ্যায়৷ তিনি বলেন অবিলম্বে রাজ্য সরকারের উচিত এই ঘটনার প্রেক্ষিত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া৷ প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো কতটা বেহাল, তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না৷