কলকাতা: বিগত কয়েক মাসে শিক্ষকদের একাধিক আন্দোলনের সাক্ষী থেকেছে মহানগর। মঙ্গলবার আবারও বেতন বৈষম্য নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলনে স্তব্ধ হয়ে গেল যাদবপুর এলাকা।শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি অভিযান করতে গেলে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বাঁধা দেন পুলিশকর্মীরা। তারপরেও পিছু হটেনি আন্দোলনকারীরা৷ রাস্তার উপরে বসে পড়েছিলেন তারা। যার ফলে সাধারণ মানুষজন ভোগান্তির শিকার হন। তবে রাতের দিকে একটি পার্কে অবস্থানে বসতে গেলেও পুলিশ বাঁধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষকদের অনেকে।

আন্দোলনকারী শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী৷  তাঁর পরেও ক্ষোভ মেটেনি আন্দোলনকারী শিক্ষকদের। এই প্রসঙ্গে পার্থবাবু জানিয়েছেন, দাবি যদি সঠিক হয় তাহলে সরকার তা শুনবে। মানুষের অসুবিধা করে এভাবে আন্দোলন করা একেবারেই ঠিক নয়। তাঁদের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছিল আগেই। মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়টি দেখছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষকদের কোন দাবি থাকলে তা তারা লিখিত ভাবে নির্দিষ্ট জায়গাতে জানাক। তিনি নিজে কথা বলে দেখবেন। কিন্তু এভাবে আচমকা আন্দোলনে বসে যাওয়া ঠিক নয়।

জুলাই মাসে গ্রেড পে বাড়ানো নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকরা আন্দোলনে নেমেছিলেন। আন্দোলনের সামনে মাথা নীচু করেছিল সরকারও। ২৬০০ টাকা থেকে বেড়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড পে দাঁড়ায় ৩৬০০ টাকায়। কিন্তু তারপরে দেখা দিয়েছে অন্য সমস্যা। এই আন্দোলনের একজন জানিয়েছেন গ্রেড পে বাড়লেও বাড়ে নি পে ব্যান্ড। যার ফলে অনেক শিক্ষক কয়েক হাজার টাকা কম পাচ্ছেন। হিসেব করে তারা দেখেছেন গ্রেড পে বেড়েছে মাত্র ৩০০ টাকা।

এছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের তরফ থেকে বেতন কাঠামো নিয়েও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছিল। তাঁদের সমস্যা তারা জানিয়েছিলেন তাঁর পরেও কোন পথ পাননি। তাই তারা আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁদের জানানো হয়েছিল মাদ্রাসা শিক্ষকদের সঙ্গে তাদ্বের বেতনে কোন তফাত থাকবে না তবে বাস্তবে তা হয়নি। বেতন কাঠামো নিয়ে সমস্যা না মেটা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানানো হয়েছে। তবে তারা যাতে এগোতে না পারেন সেই জন্য পুলিশ ও প্রস্তুত হয়ে রয়েছেন। ব্যারিকেড করা হয়েছে। এই সমস্যার সমাধান না হলে ফের অনশনের পথ বেছে নেবেন বলেও জানিয়েছেন উস্তি প্রাইমারি টিচার অ্যাসোসিয়েশন।