স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: একদিকে এনআরসি তো আরেক দিকে কেওয়াইসি। কেন্দ্রীয় সরকারের একের পর এক নির্দেশিকায় ওষ্ঠাগত সাধারণ মানুষের প্রাণ। আর এই নির্দেশিকা পালন করতে গিয়ে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন বা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন এমন ঘটনা প্রায়ই সংবাদ মাধ্যমে শোনা যায়। এবার সেই তালিকায় নতুন করে সংযোজন হল কেন্দ্রীয় সরকারের ডিজিটাল কার্ডের লাইনে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর ঘটনা।

রেশনের কারচুপি ঠেকাতে ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্র সরকার চালু করেছিল ডিজিটাল রেশন কার্ড। এছাড়াও ২০২০ সালের মধ্যে দেশের সব প্রান্তে এই প্রক্রিয়া চালু করতে জোর কদমে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে মোদী সরকার। এই নয়া ডিজিটাল রেশন কার্ডের সুবিধা হল দেশের যেকোনও প্রান্ত থেকে রেশন উপভোক্তারা তাঁদের রেশন সামগ্রী কিনতে পারবেন।

আর এই ডিজিটাল রেশন কার্ডের ব্যাপারে শুক্রবার দক্ষিন দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটের বিডিও অফিসে দরকারি কাজে গিয়েছিলেন মন্টু সরকার নামের এক ব্যক্তি। সূত্রের খবর, ভোরবেলা থেকেই বিডিও অফিসের সামনে লাইন দিয়ে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। কিন্তু বেলা বাড়তেই প্রখর রোদে গরমে দীর্ঘক্ষন দাঁড়িয়ে থাকায় অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে বালুরঘাট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে পথেই মৃত্যু হয় মন্টু সরকারের।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মন্টু সরকারের বাড়ি জলঘর এলাকার পলাশডাঙ্গা গ্রামে। শুক্রবার ভোরে তিনি বালুরঘাট ব্লক অফিসে এসে ডিজিটাল রেশন কার্ডের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রচণ্ড রোদে বেলা ১১টা নাগাদ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এদিকে মৃতের প্রতিবেশী মোক্তার মণ্ডল জানিয়েছেন, ডিজিটাল রেশন কার্ডের জন্য শুক্রবার তারা সকালবেলা পলাশডাঙ্গা গ্রাম থেকে বিডিও অফিসের উদ্দ্যেশে রওনা হন। অফিসে পৌঁছে তারা কাজের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। তিনি আরও বলেন, প্রচণ্ড গরমে বিডিও অফিসের সামনে না আছে জল না আছে বসার জায়গা। এমনকি মাথার উপর কোনও শেড না থাকায় প্রখর রোদে একটানা দাঁড়িয়ে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেকে।

মোক্তার মণ্ডল কিছুটা ক্ষোভের সুরে বলেন, তাঁর মত কয়েকশো মানুষ ভোরবেলা থেকে বিডিও অফিসের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও সেখানে সাধারণ মানুষ তো দূর, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধীদের জন্যও মাথার উপরে কোনও শেড বা বসার জায়গার ব্যবস্থা করা হয়নি৷ যার ফলে বিডিও অফিসে কাজ করতে আসা সকলকেই এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন : লাহা বাড়ি: কেউ নাকি দেখেছিলেন গা ভর্তি গয়না পরে বেরিয়ে যাচ্ছেন মা

এই বিষয়ে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডঃ সুকুমার দে জানিয়েছেন, ‘বিডিও অফিসে কাজ করতে এসে রোদে অসুস্থ হয়ে একজন মারা গিয়েছেন খবর পেয়েছি’। তিনি আরও জানান মৃত্যুর সঠিক কারন জানতে দেহটি ময়না তদন্তে পাঠানো হয়েছে।

দক্ষিন দিনাজপুরের জেলাশাসক নিখিল নির্মল জানিয়েছেন, সমস্ত বিডিও অফিসে ডিজিটাল রেশন কার্ডের কাজ চলছে। শুক্রবার বালুরঘাটের বিডিও অফিসে রেশন কার্ডের কাজ করতে এসে এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। এই ব্যাপারে জেলা শাসকের তরফ থেকে মৃতের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিডিও অফিসকে ।

সেই সঙ্গে এমন ঘটনা যাতে আর কোনও উপভোক্তাদের সঙ্গে না ঘটে সেই বিষয়ে সাধারন মানুষের সুবিধার্থে প্রতিটি বিডিও অফিসের সামনে প্যান্ডেল শেড তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক।