নয়াদিল্লি: এবার থেকে ছেলের বয়স আঠারোতে পড়লেই আইনি প্রক্রিয়ায় করতে পারবেন বিয়ে। সেইরকমই একটি প্রস্তাব খুব শীঘ্রই আনতে চলেছে সরকার। অর্থাৎ সরকারের এই নয়া প্রস্তাব অনুযায়ী মেয়েদের মত ছেলেরাও প্রাপ্তবয়স্ক হলেই এবার থেকে নিজের পছন্দসই জীবন সঙ্গীর সঙ্গে ঘর বাঁধতে পারবে। সে ক্ষেত্রে পাত্রকে অবশ্যই ১৮ বছর বয়সি হওয়া বাধ্যতামূলক বলে দাবি করছে সরকার।

ঘোষিত এই প্রস্তাবের আগে পর্যন্ত শুধুমাত্র মেয়ের বয়স আঠারো হলে সরকারি ভাবে তাঁকে বিয়ের জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হত। সেই হিসেব অনুযায়ী তখন ছেলের উপযুক্ত বিয়ের বয়স হিসেবে ২১ বছর ধার্য করা হয়েছিল। এতদিন পর্যন্ত মেয়েদের ১৮ এবং ছেলেদের ২১ বছর বয়সে বিয়ে দেওয়া স্বীকৃত ছিল। ছেলে-মেয়ে দুজনেই প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে তাঁদেরকে বিয়ে দেওয়া হলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ ছিল। ফলে সরকারের নতুন প্রস্তাবে ছেলে এবং মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রে উভয়ের বয়স ১৮ করায় এবার থেকে বাল্যবিবাহ কিছুটা কমানো যাবে বলে আশাবাদী সরকার।

‘দ্য প্রিন্ট’ এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী গত ১৮ অক্টোবর কেন্দ্রীয় সরকারে নারী এবং শিশু কল্যাণ মন্ত্রকের তরফে ‘বাল্যবিবাহ আইন ২০০৬’এর সংশোধনীর বিষয়ে ওই মন্ত্রকের তরফে একটি সরকারি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের আইন ও ন্যায়বিচার মন্ত্রক, হোম, হেলথ, মিনিওরিটি এবং উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রকের সদস্যরা। নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রকের অন্যএকটি বৈঠকে বাল্যবিবাহ পুরোপুরি অকার্য করার বিষয়েও আলোকপাত করেন মন্ত্রীরা।

বর্তমান চাইল্ড ম্যারেজ অ্যাক্টের নিয়মানুযায়ী, ছেলে হোক বা মেয়ে, বিয়ের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের বয়স প্রাপ্ত না হলে তা আইনত দণ্ডনীয় একটি অপরাধ হিসাবে ধরা হয়। অর্থাৎ বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র এবং পাত্রীর উভয়েরই বয়স প্রাপ্ত হওয়া আবশ্যিক বলে অনেক আগেই ঘোষণা করেছে সরকার। এবং বাল্যবিবাহ রোধে সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বিভিন্ন সময়ে জনসচেতনতা মূলক কর্মসূচিও গ্রহন করা হয়। যাতে আরও বেশি করে বাল্যবিবাহ আটকানো যায়।

তবুও সরকারি নির্দেশ অগ্রাহ্য করে কেউ যদি তাঁর ছেলে অথবা মেয়ের প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগেই বিয়ে দেন। সেক্ষেত্রে ধরা পড়লে আইন অনুযায়ী পাত্রপাত্রী উভয় পক্ষকেই কঠিন সাজার মুখে পড়তে হবে। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, বাল্যবিবাহ দিয়ে গিয়ে ধরা পড়লে অভিযুক্তদের দুই থেকে সাতবছর পর্যন্ত জেল এবং একলাখ থেকে সাতলাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দুটোই ধার্য করা হয়।

সরকারি সূত্রে খবর, ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্টে বাল্যবিবাহ সংশোধনী সংক্রান্ত একটি বিচারে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে,নাবালিকা স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করা ধর্ষণের মতই শাস্তিযোগ্য অপরাধের সমান। একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে সরকার চাইল্ড ম্যারেজ অ্যাক্টের কিছু শব্দের পরিবর্তন করে তাঁর বদলে নতুন শব্দ সংযোজন করতে চলেছে। যে শব্দগুলি বদলে ফেলা হচ্ছে সেগুলি হল, রক্ষণাবেক্ষণএবং বসতি। তার বদলে নয়া আইনে বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ শব্দটি যুক্ত হচ্ছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ