স্টাফ রিপোর্টার , হাওড়া : নারীরা সমাজে বারেবারে লাঞ্চনা,বঞ্চনা,অবহেলার শিকার হন। আবার সমাজে ভ্রূণহত্যা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার তার বিরুদ্ধে সচেতনতার বার্তা দিতে অভিনব উদ্যোগ নিল গ্রামীণ হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের রাজাপুর ভট্টাচার্য পরিবার। ভট্টাচার্য বাড়ির ২৩৫ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দুর্গোৎসবে এবার ১২ জন কুমারীকে দেবী রূপে পূজা করা হয়। এর পাশাপাশি,হিন্দুসমাজে ভেদাভেদের বিরুদ্ধে বার্তা দিতে বিভিন্ন বর্ণের কন্যাদেরও কুমারী রূপে পূজা করা হয় বলে জানা গেছে।

অনেকটা একইরকম ভাবে কামাখ্যার আদলে প্রতিবছর দুর্গাপুজোর অষ্টমীর চার দিন আগে কুমারী পুজো অনুষ্ঠিত হয় উলুবেড়িয়ার সমরুক গ্রামের ত্রিনয়নী ত্রিশক্তি যোগমায়া আশ্রমে। তবে এখানে একজন নয়, ৫১ জন বালিকাকে প্রতিবছর কুমারী রূপে পুজো করা হয়। সতী যখন স্বামী নিন্দা সহ্য করতে না পেরে দেহত্যাগ করেছিলেন তখন দেবাধিদেব শিব নিজের কাঁধে সতীর দেহ নিয়ে তান্ডব নৃত্য করতে শুরু করেন।

দেবরাজ ইন্দ্র সহ বিভিন্ন দেবতার শরনাপন্ন হয়েছিলেন দেবাধিদেব। সতীর দেহ ৫১ জায়গায় পতিত হয়ে ৫১ পীঠের সৃষ্টি হয়েছিল। এই কাহিনী কম বেশি প্রত্যেকেই জানি। এই ৫১ সতী পীঠের মধ্যে অন্যতম আসামের কামরূপ কামাখ্যা। সেই মায়ের আদেশ আসে লালবাবা মহারাজের স্বপ্নে। যে চতুর্থীতে কুমারী পুজো করতে হবে। থাকবে ৫১ জোন কুমারী। এমনটাই জানাচ্ছেন তিনি। সেই থেকেই আশ্রমে শুরু হয় এমন দেবীর বোধন পর্বের আগেই কুমারী পূজা।

যোগমায়া আশ্রমের পুজো এবার আঠারো বছরে পদার্পণ করল। আশ্রম সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছরই নিয়ম মেনে চতুর্থী তিথিতে এলাকার ৫১ জন কুমারীকে ৫১ পীঠের দেবীরূপে পুজো করা হয়। প্রতিপদ থেকে শুরু হয় নবদুর্গার আরাধনা। থাকে হোম-যোজ্ঞ,নাম-সংকীর্তণ। যোগমায়া আশ্রমে মা দুর্গাকে বছরভর পুজো করা হয়। নতুন বছরের প্রতিমাকে পরবর্তী বছরে পুজো পর্যন্ত নিত্যপুজো করা হয়। প্রতি বছর পুজোর সময় আগের বারের মূর্তি বিসর্জন করা হয়।

আশ্রম কমিটির সম্পাদক লালবাবা মহারাজ বলেন, ‘আমি কামাখ্যায় গেলেও সব সতীপীঠে যেতে পারিনি। আমি মা’য়ের স্বপ্নাদেশ পাই। আর সেই স্বপ্নাদেশ পেয়েই আশ্রমে ৫১ জন কুমারীকে ৫১ পীঠের দেবীরূপে প্রতিবছর দুর্গাপুজোর সময় চতুর্থীতে পুজো করি।’ লালবাবা জানান, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও হরিনাম-সংকীর্তণ, নরনারায়ণ সেবা, বাদ্যযন্ত্র সহকারে গ্রাম প্রদক্ষিণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে এবার সমস্ত ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব যেমন মানা হচ্ছে তেমনই করোনা সম্পর্কিত প্রশাসনের সমস্ত বিধিনিষেধ মেনেই আশ্রমে এবারের পুজো আয়োজন করা হয়েছে।’ চতুর্থীতে কুমারী পুজো উপলক্ষ্যে আশ্রম চত্বর থেকে গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে প্রায় আড়াই হাজার মাস্ক বিতরণ করা হয়।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।