কৌশিক চট্টোপাধ্যায়, রায়গঞ্জ: হাতের কাগজে নজর রাখতেই চোখ কপালে উঠল রায়গঞ্জ থানার আইসি গৌতম চক্রবর্তীর। হাতের তখনও একটি মিসিং ডায়রি। কে হারিয়েছে?  এসএসসি?  সাদা কাগজে লেখা স্কুল সার্ভিস কমিশনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না? এরপর কয়েক মুহূর্তের নিস্তব্ধতা। একটু ধাতস্থ হয়ে ভালো করে দেখলেন হাতের কাগজটিকে। বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকালেন সামনের চেয়ারে বসে থাকা ছেলে মেয়েদের দিকে। সামনের চেয়ারে বসে থাকা যুবকদের মন্তব্য, ২০১৩ সাল থেকে রাজ্যে বন্ধ হয়ে রয়েছে এসএসসি-র শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত চালু করার দাবিতেই আজ এই অভিনব আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। শিক্ষা সংগ্রাম মঞ্চের যুগ্ম সম্পাদক শান্তনু মিশ্র বলেন, ‘‘আমরা জেলার শিক্ষিত বেকার যুবক ও যুবতীরা বেশ কয়েকদিন দিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা সংগ্রাম মঞ্চের ব্যানারেই  আন্দোলন করে চলেছি।’’ দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক ও উচ্চবিদ্যালয় গুলিতে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় এ রাজ্যে দ্রুত গতিতে বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।  সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন নিবেদনে কোনও কাজ না হওয়ায় অগত্যা এই অহিংস আন্দোলন করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

আজ, রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ রায়গঞ্জ পাবলিক বাসস্ট্যান্ড থেকে মিছিল করে রায়গঞ্জ থানা অভিযান করেন তাঁরা৷ রায়গঞ্জ থানার আইসির কাছে মিসিং ডায়েরি দিয়ে দাবি জানান প্রায় ১০০ তরুণ-তরুণী৷ তাঁদের দাবি, গত ২০১৩ সাল থেকে নিখোঁজ এসএসসি-র নিয়োগ প্রক্রিয়া। ফলে, তাকে খুঁজে এনে দিতে হবে। শিক্ষিত বেকারদের এহেন দাবিতে প্রাথমিক ভাবে  হত বাক হয়ে পরেন রায়গঞ্জ থানার পুলিশ কর্মীরা। অবশেষে আইসি গৌতম চক্রবর্তী তাঁদের কাগজটি গ্রহণ করেন।

রায়গঞ্জ থানার আইসি গৌতম চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আমরা তাঁদের লিখিত একটি আবেদন পেয়েছি। এরকম বিষয়ে কোনও নিখোঁজ ডায়েরি করা যায় না। আমরা আবেদন পত্রটি গ্রহণ করেছি। কারণ থানায় কোনও কাগজ জমা দিলে তা রিসিভ করে দিতে হয়। যথা সময়ে সঠিক জায়গায় আমরা লিখিত আবেদনটি পাঠিয়ে দেব।’’

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।