নয়াদিল্লি: গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেখা গিয়েছিল বেতন সংকট ৷ চারমাস যেতে না যেতে ফের জুন মাসে বেতন সংকট দেখা দিল বিএসএনএলে৷ সংস্থার প্রায় ১.৭৫ লক্ষ কর্মচারীর জুন মাসের বেতন দেওয়ার মতো অর্থ নেই। পরিস্থিতি এমনই যে ৮৫০ কোটি টাকা চেয়ে কেন্দ্রের দ্বারস্থ হতে হয়েছে এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটিকে৷

বিএসএনএল-এর কাছ থেকে এমন আবেদন আসায় নড়ে চড়ে বসেছে কেন্দ্র। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থাটিকে যাতে ২,৫০০ কোটি টাকার মেয়াদি ঋণ দেওয়া যায় তারজন্য কেন্দ্র রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেছে। আপাতত ওই ঋণ মিললে আগামী ৬ মাস সংস্থার দৈনন্দিন কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাছাড়া চলতি মাসে কর্মীদের বেতন বাবদ ৮৫০ কোটি টাকা দিতে রাজি হয়েছে কেন্দ্র বলেই খবর৷

আরও পড়ুন : ভাটপাড়ায় শান্তি মিছিল আজ একযোগে সোমেন-সূর্যকান্ত

এদিকে, এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র বিএসএনএল কর্মচারীদের স্বেচ্ছাবসর প্রকল্পের জন্য ৬,৩৬৫ কোটি টাকা এবং ২,১০০ মেগাহার্ৎজ ব্যান্ডে ফোর-জি স্পেকট্রামের জন্য ৬,৭৬৭ কোটি টাকার ইকুইটি মূলধন দেওয়ার কথা ভেবেছে৷ কারণ সম্প্রতি বিএসএনএল-এর পক্ষ থেকে টেলিকম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিবকে এক চিঠিতে জানিয়েছিল, যেভাবে আয়ের তুলনায় ব্যয় এতটাই বেড়ে গিয়েছে তাতে পর্যাপ্ত ইক্যুইটি না দিলে বিএসএনএল-এর কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় ৷ সেই চিঠি পাওয়ার পরেই কর্মীদের বেতনের জন্য আপাতত বিএসএনএল-কে ৮৫০ কোটি টাকা দেওয়ার এবং ২,৫০০ কোটি টাকার মেয়াদী ঋণ জোগাড় করে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় কেন্দ্র৷

বিএসএনএল-এর এমন বেহাল দশার কারণ একদিকে বকেয়া ১৩,৫০০ কোটি টাকার ঋণ অন্যদিকে এক্ষেত্রে সরকারের উদাসীনতাও একটা বড় কারণ৷ ফোর-জি স্পেকট্রাম চেয়ে বার বার আবেদন করলেও সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন পায়নি ৷ ফলে বেসরকারি টেলিকম সংস্থাগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছু হটতে হচ্ছে এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি৷