ছবি: প্রতীকী

ক্যানিং: মালদহের পর এবার ক্যানিং। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কুসংস্কারের বলি হতে হল আরও এক শিশুকে। মুখে আধুনিক বললেও, মনে প্রানে যে এখনও আমরা আধুনিক মনস্ক হয়ে উঠতে পারেনি ফের তার প্রমাণ মিলল। যতই আমরা মুখে বলি না কেন বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে আমরা এগিয়ে চলেছি। কিন্তু এখনও সেই তিমিরেই রয়েছে আমাদের মানসিকতা।

সাপে কাটলে বা জলে ডুবলে এখনও হাসপাতালের থেকে ওঝাতেই বেশি ভরসা কিছু মানুষের। যার চরম মূল্য দিতে হয় প্রাণ দিয়ে। মালদহের রেশ কাটতে না কাটতে আরও একটি মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে গেল দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার জীবনতলা এলাকায়।

জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে ক্যানিং লাগোয়া জীবনতলায় বাড়ির কাছেই পুকুরে খেলার ছলে ডুবে যায় চার বছরের এক খুদে। স্থানীয়রা দ্রুত জলের তলা থেকে তাকে উদ্ধার করলেও শেষ রক্ষা করা যায়নি আর। উপযুক্ত চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। অভিযোগ, জল থেকে উদ্ধারের পর শিশুটিকে হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে পুকুরের ধারেই ঝাড়ফুঁক শুরু করা হয়।

আগুন জ্বালিয়ে সেই তাপে উষ্ণ করার চেষ্টা করা হয় নেতিয়ে পড়া শিশুটিকে। এমনকী মাথার উপর তুলে প্রবল ঝাঁকুনিও দেওয়া হয়। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এর পর তাড়াতাড়ি বাচ্চাটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্ত সেখানে গেলে চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করে। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে মৃতের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে।

প্রসঙ্গত, মালদহের গাজোল থানার কদমতলি এলাকার একটি মাঠে খেলতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল ৪ শিশু। অভিযোগ, অসুস্থ অবস্থায় তাঁরা বাড়ি এলেও ডাক্তার ডাকার নামগন্ধ করেনি তাঁদের পরিবার। বরং শিশুদের সুস্থ করতে ওঝা ডেকে ২ ঘণ্টা ধরে চলে ঝাড়ফুঁক। যার চরম মূল্য দিতে হয় ২ শিশুকে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ওঝাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ