স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: নজিরবিহীন৷ পরিষেবার বদলে হাসপাতাল চত্বরে চলছে একদিকে অবস্থান, অন্যদিকে রোগীর পরিবারের সঙ্গে চিকিৎসকদের ধস্তাধস্তি৷ হাসপাতালের গেট আটকে রেখেছেন খোদ চিকিৎসকরাই৷ মঙ্গলবার সকাল থেকে এটাই নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিত্র৷

হাসপাতালের গেটের এপারে অবস্থানে অনড় জুনিয়র চিকিৎসকরা৷ লোহার গেটের ওপারে একরাশ প্রশ্ন নিয়ে রোগী ও তাদের পরিবারবর্গ৷ গেট কেন বন্ধ? প্রশ্ন করতেই আন্দোলনকারীদের উত্তর, আমাদের নিরাপত্তা নেই৷ যতক্ষণ নিশ্চিৎ না হবে ততক্ষণ আন্দোলন চলবে৷ কাতর মুখে ফের প্রশ্ন এপার থেকে আজকেই তো ডেট দিয়েছে ডাক্তার আউট ডোরে৷ তার কী হবে? বেজার মুখে চিকিৎসকদের জবাব, পরে হবে৷

অসহায় অবস্থায় সুদূর সুন্দরবন, ক্যানিং অথবা মালদহ, মুর্শিদাবাদ থেকে আসা রোগীদের অবস্থা৷ কী হবে? তা ভেবেই ক্লান্ত এনআরএসের সামনে অপেক্ষারত রোগীর পরিবারের লোকেরা৷ আশা আউটডোর খুলবে৷ শুরু হবে প্রিয়জনের চিকিৎসা৷

কিন্তু সে আশায় জল পড়েছে৷ হাসপাতালের মূল গেট বন্ধ করে অবস্থান আন্দোলনে অনড় এনআরএসের জুনিয়র চিকিৎসকরা৷

সমস্যার সূত্রপাত সোমবার রাতে৷ রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে সরাকরি ওই হাসপাতাল চত্বর৷ চিকিৎসায় গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে৷ অভিযোগ, জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রথমে মারধর করে মৃতের বাড়ির লোকেরা৷ পালটা মারধর করা হয় জুনিয়র চিকিৎসকদের৷ এতেই আহত হন দুই চিকিৎসক৷ বর্তমানে তারা নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন৷ পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে লাঠি চার্জ করতে হয়৷ পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় দুজনকে৷

নিরাপত্তাহীনতায় জুনিয়র চিকিৎসকরা৷ বারংবার তাদের নিগ্রহের শিকার হতে হচ্ছে৷ প্রতিবাদে এদিন সকাল থেকেই হাসপাতালের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান বিক্ষোভে জুনিয়র চিকিৎসকরা৷ রাতভর এই অবস্থান করা হয়৷

দিনের শুরুতে আন্দোলন সম্পর্কে সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে রাজি হয়নি আন্দোলকারী চিকিৎসকরা৷ তবে তারা জানাচ্ছেন, নিরাপত্তা সুনিশ্চিৎ না হলে গেট খোলা হবে না৷ পরে রোগী ও তাদের ক্ষোভের সামনে পড়তে হয় চিকিৎসকদের৷ বেলা বাড়তেই সহ্যের সীমা ছাড়ায় রোগীর পরিবারের মানুষদের৷ একযোগে হাসপাতালের গেটের তালা ভেঙে দেন তারা৷ ঢুকে পড়েন হাসপাতালের মধ্যে৷ যদিও পরিষেবা আর চালু হয়নি৷ কিছুক্ষণ পর ফের আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা হাসপাতালের গেট বন্ধ করে দেন৷

প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, জীবন বাঁচানো যাদের কাজ তারা কী করে পরিষেবা বন্ধ রেখে এই দরণের আন্দোলন চালিয়ে যান তা নিয়ে৷