কলকাতা: এক ক্লাব শতবর্ষ পেরিয়েছে বছর তিরিশ আগেই। আরেকদল শতবর্ষের দোরগোড়ায়। কথা হচ্ছে ময়দানের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের। প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই থাক, ১ অগাস্ট নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে লাল-হলুদের শতবর্ষ অনুষ্ঠানে এসে মোহনবাগান অর্থসচিব দেবাশিস দত্ত পড়শি ক্লাবের পাশে থেকে দিয়েছিলেন সম্প্রীতির বার্তা। এক সপ্তাহ পেরোতে না পেরোতেই সমর্থকদের বেয়াদবিতে ভুলুন্ঠিত হল সেই সম্প্রীতির বার্তা।

ফের ময়দান দেখল ফুটবল সমর্থকদের নামে কিছু গুন্ডাদের দাদাগিরি। বৃহস্পতিবার ঐতিহ্যের ডুরান্ডে নিজেদের মাঠে মোহনবাগান মুখোমুখি হয়েছিল এটিকে’র। ম্যাচে আইএসএলে কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজি দলকে ২-১ গোলে হারায় সবুজ-মেরুন। আর ম্যাচ জিতে ফেরার পথে লেসলি ক্লডিয়াস সরণির সামনে শতবর্ষ উপলক্ষ্যে নির্মিত ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের তোরণটি ভেঙে দেন একদল বাগান সমর্থক। ছিঁড়ে ফেলা হয় ফ্লেক্স। উত্তেজিত বাগান সমর্থকদের এই অভব্য আচরণে স্বভাবতই নিন্দার ঝড় ময়দানে।

আরও পড়ুন: ডুরান্ডের সেমিফাইনালে সবুজ-মেরুন

দলের সমর্থকদের এই গুন্ডাগিরিতে বিরক্ত খোদ বাগান কর্তারাই। ইস্টবেঙ্গলের কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকারের কথায়, এরা আসলে কেউই ফুটবলের সমর্থক নয়। অবিলম্বে এদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার দাবি তুলেছেন তিনি। একই সুর মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন ফুটবলার তথা বর্তমান কোষধ্যক্ষ সত্যজিৎ চ্যাটার্জির গলাতেও। সূত্রের খবর, ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর লাল-হলুদ সচিব কল্যাণ মজুমদারের কাছে দুঃখপ্রকাশ করে একটি মেল করা হয়েছে মোহনবাগান ক্লাবের পক্ষ থেকে।

আরও পড়ুন: প্রোটিয়া ক্রিকেটে আমলাতন্ত্রের অবসান

এখানেই শেষ নয়। চরম নিন্দনীয় এই ঘটনায় লজ্জিত মোহনবাগানের কর্তা-ব্যক্তিরা। কয়েকজন অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে ময়দান থানায় তাদের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বাগান কর্তারাই।