লখনউ: একে রামে রক্ষা নেই, তায় সুগ্রীব দোসর৷ মুখ্যমন্ত্রী বাক্যব্যায় মাত্র যোগ্য সঙ্গত ধরলেন মার্কণ্ডেয় কাটজু৷ শনিবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছিলেন এলাহাবাদ স্টেশনের নাম বদল করতে চান তিনি৷ এই ঘোষণা করা মাত্রই বিচারপতি মার্কেণ্ডেয় কাটজু বলেন আরও ১৮ শহরের নাম বদল করতে পারলে ভালো হয়৷

সেই তালিকা ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথকে দিয়ে এসেছেন মার্কণ্ডেয়৷ এলাহাবাদের নাম বদলের সিদ্ধান্তকে তিনি যে সব দিক থেকে সমর্থন করেন, তাও বলেছেন কাটজু৷ ট্যুইট করে তিনি বলেছেন মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত একেবারে সঠিক৷ তবে আরও বেশ কয়েকটি শহর রয়েছে, যাদের নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন৷

মার্কণ্ডেয় কাটজুর মতে বাবরের আমলের নাম পরিবর্তন প্রয়োজন৷ তাঁর দেওয়া তালিকায় রয়েছে আগ্রা, আলিগড়, গাজিপুর, শাহাজাহানপুরের মতো শহরগুলি৷ তাঁর পরামর্শ আলিগড়ের নাম রাখা উচিত অশ্বত্থামানগর, আগ্রার অগস্ত্যনগর, গাজিপুরের গণেশপুর ও শাহাজাহানপুরের নাম পরিবর্তন করে রাখা উচিত সুগ্রীবপুর৷

এই ভাবে মোট ১৮টি শহরের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন তিনি, যাদের নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে৷ ফৈজাবাদকে তিনি নরেন্দ্রমোদিপুর বলে পরিচিত করাতে চাইছেন৷ এখানেই আবদারের শেষ নয়, ফতেহপুরের নাম অমিতশাহনগর ও মোরাদাবাদের নাম মনকিবাতনগর রাখতে চান কাটজু৷ গত উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই বদলে ফেলা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী মোগলসরাই স্টেশনের নাম। নাম বদলে করা হয়েছে ‘দীন দয়াল উপাধ্যায়।’ এবার অন্য এক স্টেশনের নামও বদলে ফেলার প্রস্তাব দিল যোগী সরকার।

আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে এলাহবাদে শুরু হচ্ছে অর্ধ কুম্ভ মেলা। তার আগেই এলাহবাদ স্টেশনের নাম বদলে ‘প্রয়াগরাজ’ করতে চাইছে রাজ্য। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শনিবার বলেন, ‘২০১৯-এর কুম্ভমেলার আগে এলাহবাদ স্টেশনের নাম বদলে ফেলার আবেদন জানিয়েছে আখাড়া পরিষদ। রাজ্যপাল ইতিমধ্যেই অনুমোদন দিয়েছেন। হয়ত খুব তাড়াতাড়ি নাম পরিবর্তন করা সম্ভব হবে।’

এলাহবাদের পুরনো নাম প্রয়াগ। ১৬০০ শতকে মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে সেই নাম পরিবর্তন হয়। ওই সময় গঙ্গা, যমুনার সঙ্গমের কাছে একটি দুর্গ তৈরি করনে আকবর। ওই দুর্গ ও তার আশেপাশের অঞ্চলকে তিনি নাম দেন ‘ইল্লাহবাদ।’ তাঁর নাতি সম্রাট শাহজাহান গোটা শহরের নামকরণ করে ‘আল্লাহবাদ’ বা এলাহবাদ। তবে সঙ্গমের কাছে যেখানে কুম্ভমেলা হয়, সেই এলাকার নাম প্রয়াগই থেকে যায়।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও