স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলার খেসারত দিতে হল অমিতাভ মজুমদারকে৷ খোয়াতে হল ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির সভাপতির পদ৷ শনিবার তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়৷ এ বিষয়ে একটি চিঠিও নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে ওই দলের পক্ষ থেকে৷ সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অমিতাভ মজুমদারের জায়গায় সভাপতি করা হয়েছে ফরিদ খানকে৷নির্বাচন কমিশনে পাঠানো ওই চিঠিতে সই রয়েছে দলের সাধারণ সম্পাদক প্রবাল রাহার৷

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন অমিতাভ মজুমদার৷ সেই চিঠির বয়ান প্রকাশ্যে আসে শনিবার৷ আর তাতে হইচই পড়ে যায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে৷কারণ, রাজ্য রাজনীতিতে অমিতাভ মজুমদার মুকুল রায়ের অনুগামী হিসাবেই পরিচিত ছিলেন৷ সপ্তাহখানেক আগে তিনি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে মুকুল রায়কে ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস পার্টিকে নেতৃত্ব দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন৷অথচ দেখা যাচ্ছে তার ঠিক তিনদিনের মাথায় তিনি চিঠি লিখছেন মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে৷ মুকুলকে দলে নিলে বিজেপির ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন৷এমনকী, সদ্য প্রাক্তন এই সাংসদকে তৃণমূলের চর বলেও তিনি ওই চিঠিতে কটাক্ষ করেছেন৷

আর এই চিঠি প্রকাশ্যে আসার পরপরই অমিতাভ মজুমদারকে সভাপতি পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনে জানানো হল ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে৷ নির্বাচন কমিশনে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, তাতে তারিখ রয়েছে ১০অক্টোবরের৷ সেদিনই বৈঠক ডেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে ওই চিঠিতে লেখা হয়েছে৷অমিতাভবাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগে ওই চিঠিতে লেখা হয়েছে যে, তিনি নিজের প্রয়োজনে দলের লেটারহেড ব্যবহার করে চিঠি লিখেছেন৷ দলের এক্সিকিউটিভ কমিটিকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে এই কাজ করেছেন তিনি৷ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তিনি দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন৷তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ পরিবর্তে ফরিদ খানকে দলের সভাপতি করা হয়েছে৷

ওই চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, মুকুল রায়ের সঙ্গে ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির কোনও সম্পর্ক নেই৷ কিন্তু ওই চিঠি ঘিরে ইতিমধ্যে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে৷ রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের মতে, মুকুল রায় এখনও ওই পার্টির নিয়ন্ত্রক৷ তিনি তৃণমূল ছাড়ার পর ওই দলের নাম মুখে না আনলেও, ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস পার্টিতে মুকুলের অনুগামীর সংখ্যাই বেশি৷ তাই মুকুলের বিরুদ্ধে চিঠি লেখার খেসারত অমিতাভ মজুমদারকে দিতে হল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা৷ তবে ১০ তারিখ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা কেন চারদিন পর নির্বাচন কমিশনে ‘সাবমিট’ করা হল সেই প্রশ্ন কিন্তু রয়েই গেল৷