স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: ছোটবেলা থেকেই পড়াশুনা আর খেলাধুলা যেন নিত্যসঙ্গী মালদহের ইংরেজবাজারের নঘড়িয়ার বাসিন্দা মামনি ঘোষের৷ দশম শ্রেণির এই মেয়ের জ্যাভেলিন আর ডিসকাস থ্রো তে জোড়া সোনা রয়েছে৷ এখন লক্ষ্য জাতীয়স্তরে সাফল্য৷
মামনির বাবা অজিত ঘোষ পেশায় দিনমজুর৷ মেয়ের সাফল্যে বেশ খুশি৷ অভাবের সংসারে যেখানে জীবন কাটানোটাই চ্যালেঞ্জের, সেখানে স্বর্ণজয়ী মেয়ের স্বপ্ন কিভাবে পূরণ হবে ! এই চিন্তাতেই ঘুম আসে না অজিত বাবুর৷ তাঁর অনুরোধ কোনও স্বহৃদয় ব্যক্তি যদি সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন, তাহলে মামনির স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে৷

দুধ-ডিমের পুষ্টিও মামনি পায় না৷ ছাতুর ঘোল কিম্বা শুধুই পান্তা, মামনির মতো অ্যাথলিটের এটাই খাদ্যতালিকা৷ অভাবের সঙ্গে দাঁতে-দাঁত চেপে লড়াই করা মামনিই রাজ্য অ্যাথলেটিক্স মিটে জ্যাভেলিন আর ডিসকাস থ্রো’তে জোড়া সোনা ছিনিয়ে এনেছে৷
এক চিলতে ভাঙাচোরা ঘরের এককোনেই সারি দিয়ে সাজানো একের পর এক ট্রফি। পাশেই দড়ির সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা একগুচ্ছ মেডেল। জল পড়া ঘরে বৃষ্টি থেকে পুরস্কার বাঁচাতে সবটাই প্লাষ্টিক দিয়ে ঢাকা। অর্থের কারনে বন্ধ হয়ে গিয়েছে দাদার লেখাপড়া। নুন আনতে পান্তা ফুরানো ঘরে অদম্য জেদকে সঙ্গী করেই লড়ছে মামনী

মামনির ধ্যানঞ্জান শুধুই মাঠ আর স্কুল। এমাসের গোড়ায় সল্টলেকে অনুষ্ঠিত রাজ্য অ্যাথলেটিক্স এ অনূর্ধ্ব-১৮ বিভাগে জ্যাভেলিন থ্রো তে ৩৪.৮৩ মিটার দূরত্ব পার করে রাজ্যে নতুন রেকর্ডের অধিকারী মামনি। তাঁর হাত ধরে সোনা এসেছে ডিসকাসেও। মামনি জানিয়েছে, রাজ্যের পর এবার লক্ষ্য জাতীয়স্তর। অজিতবাবু আর মা জ্যোৎস্না দেবীর আক্ষেপ একটাই৷ কঠোর পরিশ্রমী এই মেয়ের মুখে খাবার জোগাতে পারেন না তাঁরা। মেয়েকে কখনও খেলায় বাঁধা দেননি৷ শুধু এটুকুই করতে পেরেছেন বলে জানালেন তাঁরা৷

মামনির কোচ মালদহের বিশিষ্ঠ ক্রীড়াবিদ নঘরিয়া হাইস্কুলেরই শিক্ষক পুলক ঝাঁ। নিজের হাতে বহু সেরা অ্যাথলিট গড়েছেন তিনি৷ এবার তাঁর বাজি মামনি। ছেলে০-মেয়েদের জন্য স্কুলেই তৈরী করেছেন ছোটখাটো জিমন্যাসিয়াম। এখানেই দৈনিক শারীরিক কসরত করে মামনি। বাকি সময়টা কাটে স্কুলের মাঠে প্র্যাকটিসে৷ উন্নত পরিকাঠামো আর প্রয়োজনীয় খাবার পেলে মামনি চমকে দেবে৷ নিশ্চিত কোচ৷