বিশেষ প্রতিবেদন: পাক সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়ার ‘ব্লাড প্রেসার’ বাড়িয়ে দিয়েছে ‘বর্ডার অ্যাকশন টিম’ বা ব্যাট৷ পাক সেনার বিশেষ বাহিনী বা এলিট ফোর্স হল ব্যাট৷ কিন্তু কাশ্মীর সীমান্তে এতদিনে ‘চিমটি কাটা’ ছাড়া আর বিশেষ কিছু করে উঠতে পারেনি কোটি কোটি পাকিস্তানি মুদ্রা ব্যয়ে তৈরি এই ফোর্স৷ সেক্ষেত্রে ব্যাট – এর যৌক্তিকতা নিয়ে পাক সেনার অন্দরেই ফিসফাস শুরু হয়ে গিয়েছে৷

সম্প্রতি নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতীয় সেনার গুলি খেয়ে খতম হয়েছে দুই ব্যাট সেনা৷ প্রমাণ স্বরূপ তাদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ পাক-অস্ত্রশস্ত্র পাওয়া গিয়েছে৷ ভারতীয় সেনার গুলির শব্দেই হামাগুড়ি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে পালিয়েছে অন্যান্য পাক সেনারা৷ সাধের ব্যাট-এর এই দুরবস্থা চোখে দেখতে পারছেন না পাক সেনাপ্রধান বাজওয়া৷ বুঝতে পারছেন না যে লজ্জায় মুখ লুকাবেন কোথায়৷

২০১৮ সালের শেষ শনিবারের ভোর রাতে জম্মু ও কাশ্মীরের নওগাম সেক্টরের ঘন জঙ্গলে লুকিয়ে পাক স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের (এসএসজি) বিশেষ দল ‘ব্যাট’ নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে প্রবেশ করতে চেষ্টা করে৷ নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করার আগে অবশ্য কেমন করে অপারেশন সফল করা যাবে তার ‘মাস্টার প্ল্যান’ তৈরি করে রাখা হয়েছিল৷ বর্ষবরণের রাতে উপত্যকার নওগাম সেক্টরে হত্যালীলা চালানোর যাবতীয় প্ল্যান করেই রেখেছিলেন বাজওয়া৷

রাওয়ালপিন্ডির সেনা হেডকোয়ার্টারে বসে গোঁফে তা দিতে দিতে ভাবছিলেন – সার্জিকাল স্ট্রাইকের বদলা নেওয়ার সময় চলে এসেছে৷ কিন্তু আশায় জল ঢেলে দিল ব্যাটের ব্যর্থতা৷ ‘ক্লিন বোল্ড’ পাক সেনা৷ বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার খবরে উঠে এসেছে পাক এলিট ফোর্সের ব্যর্থতার কথা৷

যে ব্যাট জাওয়ানদের পাঠানো হয়েছিল, তারা নাকি বিশেষ ভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আক্রমণ করার জন্য প্রশিক্ষিত৷ পাক সেনা, এয়ার ফোর্স এবং বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষিত জঙ্গিদের নিয়েই ব্যাট তৈরি হয়েছে৷ পাক সেনার অফিসাররা ব্যাট জাওয়ানদের ৮ মাস ট্রেনিং দিয়েছেন৷ এয়ার ফোর্সের অফিসাররা এক মাস ট্রেনিং দিয়েছে৷ কিন্তু শনিবারের ঘটনার পর সেনাপ্রধান বাজওয়ার মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে৷

প্রশিক্ষণ কতটা ভুলত্রুটি মুক্ত ছিল, তা এখন বাজওয়ার প্রধান চিন্তা৷ অন্যান্য পাক অফিসাররা নাকি বলাবলি শুরু করেছেন এদের প্রশিক্ষণ নিয়ে কী লাভ হল৷ অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশিক্ষণ কী উচ্চপর্যায়ের ছিল?

ফাইল ছবি

সেনাপ্রধান হিসেবে আর একবছর চাকরি রয়েছে বাজওয়ার৷ কিন্তু দুইমুখি চাপে রয়েছেন তিনি৷ একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এবং অন্যদিকে চিনের চাপে প্রায় চিঁড়েচ্যাপ্টা তিনি৷ দেশের জঙ্গি সংগঠনগুলির উপর ‘অ্যাকশন’ নেওয়ার ক্ষমতা নেই সেনাপ্রধানের৷ আমেরিকার আর্থিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে৷ চিনের পকেট খসিয়ে প্রচুর অর্থ পাক কোষাগারে যাচ্ছে৷ যা পছন্দ করছে না চিনা অর্থনীতির নিয়ন্ত্রকরা৷ অন্যদিকে দেনার দায়ে ডুবে চিনের কলোনিতে পরিণত হওয়ার পথে দিন-দিন এগোচ্ছে পাকিস্তান৷ বাজওয়ার বিপদও ঘনিয়ে আসছে৷