ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: উপনির্বাচনে তিন-শূন্য ভোটে জেতার আশা ছিল গেরুয়া শিবিরের৷ কিন্তু দিনের শেষে তাদেরকেই খালি হাতে ফিরতে হল৷ এই বিপর্যয়ের জন্য দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেই দায়ী করল দলের একাংশ৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ক্ষোভ উগরে দিলেন তারা৷

রেজাল্ট মোটামুটি পরিষ্কার হতেই সকাল ১১টা নাগাদ প্রথম ফেসবুকে স্টেটাস দেন দলের অধ্যাপক নেতা অনুপম হাজরা৷ তিনি লেখেন “উপনির্বাচনের ফলাফল সংকেত দিচ্ছে, ‘নতুন-পুরনো’ সবাইকে কাজে লাগিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করা উচিত এব পক্ষপাতিত্ব না করে, প্রতি মণ্ডলে যোগ্যতম ব্যাক্তিকে যোগ্য মর্যাদা দিয়ে দায়িত্বে আসীন করা উচিত৷”

লোকসভা নির্বাচনে হাওড়ায় বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন রন্তিদেব সেনগুপ্ত৷ বৃহস্পতিবার ফল বেরোতেই ফেসবুকে স্টেটাস দিয়েছেন রন্তিদেব৷ বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি লিখেছেন, “অতিরিক্ত আত্মসন্তুষ্টি এবং আত্মম্ভরিতাই বিপর্যয়ের কারণ৷ উপনির্বাচনের ফলাফল সেটাই বলছে৷”

কালিয়াগঞ্জ ও করিমপুরে খারাপ ফলের জন্য দিলীপ ঘোষের উপরে ততটা চাপ না থাকলেও স্বাভাবিক ভাবেই চাপ তৈরি করেছে খড়্গপুর সদর। কংগ্রেসের জ্ঞান সিং সোহন পালের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া আসন থেকে তিনি বিধায়ক হয়েছেন। মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই বিধানসভা কেন্দ্রে গত লোকসভা নির্বাচনেও ৪৮ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছে বিজেপি। কিন্তু সেখানেই তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে এমন হার কেন? রাজ্য সভাপতি নিজের কেন্দ্রেই কেন দলকে জয় এনে দিতে পারলেন না? এই সব প্রশ্ন ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে বিজেপির অন্দরে। আর তাতেই অনেকে বলছেন, এই হারের দায় নিয়ে রাজ্য সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত দিলীপের।

খড়গপুরে হার নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতির ব্যাখা,“লোকসভার থেকে কম ভোট পেয়েছি। একটা আঙ্গিকে হয়েছিল। খড়্গপুরে পুলিস, গুন্ডা ও মাফিয়ারা ভোট করেছে। আগেরবার বুঝতে পারেনি। এবার গুন্ডা, মাফিয়াদের জেল থেকে ছেড়ে দিয়েছিল শাসক দল। ভোটের আগের রাতে হুমকি দিয়েছে।”

তবে বাকি দুটি আসনে হারার জন্য দিলীপ ঘোষ বলেন, এনআরসি ইস্যু থেকে সাংগঠনিক দুর্বলতা– অনেক কিছুই কারণ হয়ে থাকতে পারে। সেটা বিশ্লেষণ না করে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে তিনি মনে করেন এমন ফল আশা করা যায়নি। দিলীপ বলেন, “নির্বাচনী প্রচারে কর্মীদের মধ্যে যে উদ্দীপনা ছিল, সভা-সমাবেশে যে আগ্রহ দেখা গেছে তার সঙ্গে ভোটের ফল মিলছে না। গভীর বিশ্লেষণ না করলে কিছুই বলা সম্ভব নয়।”

উল্লেখ্য, দুদিন আগেই সংসদে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আর এক নেতা মুকুল রায় বলে এসেছিলেন, তিনটি আসনই বিজেপি পাবে৷ মুকুলের এমন আত্মবিশ্বাস দেখে যারপরনাই খুশি হয়েছিলেন শাহ৷ তবে এই ফল বেরোনোর পর অমিত শাহর সঙ্গে বঙ্গ নেতাদের কোনও কথা হয়েছে কিনা সেব্যাপারে এখনও কিছু জানা যায়নি৷

এদিকে বাইরেও ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ হচ্ছে দিলীপ ঘোষ-মুকুল রায়দের নিয়ে৷ লোকসভা ভোটের ফল বেরোনোর পর তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বিজেপি বলেছিল, ১৯-এ হাফ, ২১-এ সাফ৷ কটাক্ষ করে তৃণমূল এখন বলছে, উপনির্বাচনে ফল দেখে বিজেপির বাড়বে রক্তচাপ৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ