কোহিমা: শ্রীলংকায় যেভাবে চার্চ ও হোটেল ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে তার জেরে চিন্তা নাগাল্যান্ড সরকার৷ কারণ, রাজ্যের ৮৮ শতাংশ জনগণ খ্রিষ্টান৷ নিরাপত্তার কারণে উত্তর পূর্বাঞ্চলের এই রাজ্যে জারি হল লাল সতর্কতা৷ এমনিতেই লোকসভা নির্বাচনের কারণে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের হামলার আশঙ্কা রয়েছে৷ তার মাঝে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার জেরে আরও বাড়ল নিরাপত্তার বহর৷

নাগা ভূমিতে জঙ্গি হামলার জড়িত থাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এনএসসিএন(খাপলাং)৷ তবে তাদের সদস্যরা যেহেতু খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী তাই হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে অসমে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন উগ্র ইসলামিক সংগঠনের দিক থেকে৷ মূলত হুজি-বি, জেএমবি, নব্য জেএমবি নাগাল্যান্ডে হামলা চালাতে পারে বলেই মনে করছে গোয়েন্দা বিভাগ৷

উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর, নাগাল্যান্ডের সর্বত্র চলছে কড়া নিরাপত্তা৷ জনগণ সন্ত্রস্ত৷ শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণে আইএস জঙ্গিরা টার্গেট করেছে খ্রিষ্টানদের৷ সেই রেশ ধরে খ্রিষ্টান অধ্যুষিত নাগাল্যান্ডেও হামলা হতেই পারে৷ রাজ্যের মুখ্য সচিব টেমজেন টয় চিঠি লিখে নিরাপত্তার ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন ডিজিপিকে৷ আসাম রাইফেলসে মহানির্দেশক ও গোয়েন্দা বিভাগের কাছেও সেই চিঠি পাঠানো হয়েছে৷ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে জঙ্গি হামলা রুখতে বিশেষ পরিকল্পনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷

একইসঙ্গে নাগাল্যান্ড লাগোয়া অসম ও মনিপুর আন্তঃরাজ্য সীমান্তেও চলছে বিশেষ তল্লাশি অভিযান৷ আবার মায়ানমারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তেও চলছে বিশেষ নজরদারি৷

শ্রীলংকায় আইএসের স্থানীয় শাখা সংগঠনের ঘটানো বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা তিনশোর বেশি৷ ৫০০ জনের বেশি জখম৷ মৃতদেহ সমাধিস্থ করার কাজ চলছে৷ সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে শ্রীলংকার চার্চ ও হোটেলে ৮টি ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটায় আইএস বলেই মনে করছে একাধিক গোয়েন্দা সংগঠন৷

ভারতেও আইএস ও আলকায়দার শাখা সংগঠন হিসেবে সক্রিয় বিভিন্ন সংগঠন৷ প্রতিবেশী বাংলাদেশের অন্যতম দুটি জঙ্গি গোষ্ঠী জেএমবি ও নব্য জেএমবি সক্রিয় অসম ও পশ্চিমবঙ্গে৷ সংগঠন বিস্তার ঘটিয়েছে আনসার আল ইসলামের মতো সংগঠন৷ তাদের লক্ষ্য ভারতেও নাশকতা ঘটানো৷