ধরমশালা: গত ম্যাচে তাঁর অপরাজিত ত্রিশতরানে ভর করে আয়োজক উত্তর প্রদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচ ড্র করতে সক্ষম হয়েছিল মুম্বই। ত্রিশতরানের রেশ ফিকে হতে না হতেই পরের ম্যাচে দ্বিশতরান হাঁকালেন মুম্বইয়ের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান সরফরাজ খান। টানা দু’ম্যাচে ব্যাট হাতে ধ্রুপদী ইনিংসের সৌজন্যে প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে ফের এক এলিট ক্লাবে নাম লিখিয়ে নিলেন বছর বাইশের ব্যাটসম্যান। তালিনাড়ুর ডব্লুভি রমনের পরে দেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা দু’ম্যাচে ত্রিশতরান ও দ্বিশতরানের বিরল নজির গড়লেন সরফরাজ।

ধরমশালায় এলিট ‘বি’ গ্রুপের ষষ্ঠ ম্যাচে সোমবার হিমাচল প্রদেশের মুখোমুখি হয়েছে মুম্বই। ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই এদিন ১৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় মুম্বই। ব্যাট হাতে ফের আদিত্য তারে নেতৃত্বাধীন দলের ত্রাতা হয়ে ওঠেন তরুণ সরফরাজ। চতুর্থ উইকেটে সিদ্ধেশ ল্যাডের সঙ্গে প্রথমে ৫৫ রানের পার্টনারশিপ এরপর অধিনায়ক তারের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ১৪৩ রানের পার্টনারশিপে দলকে আইসিইউ থেকে বের করেন তিনি।

হিমাচলের বোলারদের সাধারণ স্তরে নামিয়ে এনে প্রথমে শতরান এবং পরে ১৯৯ বলে দ্বিশতরান পূর্ণ করেন সরফরাজ। অর্ধশতরান পূর্ণ করার পর ব্যক্তিগত ৬২ রানে অধিনায়ক তারে ফিরলেও গত ম্যাচের ত্রিশতরানকারীকে দ্বিশতরান থেকে আটকাতে পারেননি বিপক্ষের বোলাররা। প্রথমদিনের শেষে ২১৩ বলে ২২৬ রানে অপরাজিত রয়েছেন সরফরাজ। তারের পর ষষ্ঠ উইকেটে শুভম রঞ্জানের সঙ্গে তাঁর ১৫৮ রানের অবিভক্ত পার্টনারশিপে প্রথমদিনের শেষে ৫ উইকেটে ৩৭২ রানে শেষ করে মুম্বই। সরফরাজের ধ্রুপদি ইনিংস সাজানো রয়েছে ৩২টি চার ও ৪টি ছয় দিয়ে। দ্বিতীয়দিন অপরাজিত দ্বিশতরানকে ফের একটি ত্রিশতরানে কনভার্ট করতে পারেন কীনা সরফরাজ, এখন সেটাই দেখার।

এর আগে ১৯৮৯ তামিলনাড়ুর হয়ে পরপর দুই ম্যাচে ত্রিশতরান ও দ্বিশতরানের বিরল নজির গড়েছিলেন ডব্লুভি রমন। টানা দুটি ম্যাচে সেবার রমনের ব্যাট থেকে এসেছিল ৩১৩ এবং অপরাজিত ২০০ রান। দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে রমনের সেই বিরল নজির স্পর্শ করলেন সরফরাজ। উল্লেখ্য, গত ম্যাচে সপ্তম মুম্বই ব্যাটসম্যান হিসেবে রঞ্জি ট্রফিতে ত্রিশতরানের নজির গড়েছিলেন সরফরাজ।

সুনীল গাভাস্কর, অজিত ওয়াদেকর, বিজয় মার্চেন্ট, সঞ্জয় মঞ্জরেকর, ওয়াসিম জাফর ও রোহিত শর্মার পর এই নজির গড়ে রঞ্জির এলিট ক্লাবে নাম লিখিয়েছিলেন কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের এই ব্যাটসম্যান।