স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: রাতের অন্ধকারে খুন হয়েছে এক তৃণমূল কর্মী, এমনই অভিযোগের তীর উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে৷ ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের গলসী থানার সাটিনন্দী গ্রামে৷ যদিও তৃণমূলের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি৷

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কর্মীর নাম জয়দেব রায়৷ সোমবার রাতে খানা জংশন থেকে কাজ সেরে সাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি৷ সেই সময় কলাবাগান মোড়ের কাছে বিজেপি সমর্থকরা লাঠি, রড নিয়ে তার উপর আক্রমণ করে৷ ঘটনাটি নজরে আসে কিছু তৃণমূল কর্মীর৷ তাঁরা এগিয়ে আসে জয়দেব বাবুকে বাঁচাতে৷ কিন্তু তাদের উপরেও আক্রমণ করে বিজেপি কর্মীরা৷

আহতদের চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসে৷ তাদের উপস্থিতি বুঝে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় জয়দেব রায় সহ মোহন পুইলে, বলরাম মালিক, অনিল মালিককে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ মঙ্গলবার সেখানেই মৃত্যু হয় জয়দেব বাবুর৷ বাকি আহতরা সেখানেই চিকিৎসাধীন।

সন্দেশখালির পর এবার পূর্ব বর্ধমানের এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে এই ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে গলসী তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এলাকায় ধিক্কার ও শোক মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত শনিবার বসিরহাট লোকসভার সন্দেশখালিতে তৃণমূল বিজেপি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন চার বিজেপি নেতা। মারা গিয়েছেন এক তৃণমূল কর্মীও। এই ঘটনায় রাজ্যে নতুন করে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। ঘটনায় সুকান্ত মণ্ডল, প্রদীপ মণ্ডল, তপন মণ্ডল এবং দেবদাস মণ্ডল নামের চার কর্মী-সমর্থক খুন হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে বিজেপি সূত্রে৷ এদের মধ্যে সুকান্ত ও প্রদীপের চোখে গুলি করা হয়েছে৷

তপনের মাথায় গুলি লেগেছে৷ এখনও ১৮ জন বিজেপি কর্মী নিখোঁজ বলেও বিজেপির দাবি৷ অন্যদিকে কায়ুম মোল্লা নামের এক তৃণমূল কর্মীও প্রাণ হারিয়েছেন এই সংঘর্ষে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এবং ওখানকার তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান জড়িত রয়েছেন এই ঘটনার পিছনে। বিজেপি কর্মীদের খুন করেছে৷