নয়াদিল্লি : বুধবারই মুক্তি পেয়েছেন বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা শর্মা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুপারইম্পোজড করা ছবি সোশ্যাল সাইটে শেয়ার করায় মানহানির মামলায় গ্রেফতার করা হয় প্রিয়াঙ্কাকে। এই কাজের জন্য তাঁকে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু গতকাল জেল থেকে বেড়িয়ে প্রিয়াঙ্কা বললেন, ক্ষমা তিনি চাইবেন না।

সেই সঙ্গে আরও জানান, আদালতে এই মামলার শেষ দেখে ছাড়বেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সুপারইম্পোজড করায় বিন্দুমাত্র দুঃখিত নন, তাই এজন্য কোনোভাবেই ক্ষমাও চাইবেন না তিনি। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সাফ জানিয়ে দিলেন হাওড়ার বিজেপি যুব মোর্চা নেত্রী প্রিয়াঙ্কা শর্মা। একইসঙ্গে মমতাকে নিশানা করে প্রিয়াঙ্কার হুঁশিয়ারি, “উনি তো প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে এতকিছু বলছেন, তাহলে তো ওনাকেও গ্রেফতার করা উচিত”।

প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, “আমার মনে হয় না, আমি কোনও অন্যায় করেছি। সুতরাং ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। একটা সাধারণ ছবি পোস্ট করেছিলাম, সেজন্য ৫ রাত জেলে থাকতে হল। ছোটোখাটো পোস্টের জন্য এতকিছু করছেন। তৃণমূলের জন্য সবকিছু মাফ। বিজেপি কর্মী বলে এত অত্যাচার করা হচ্ছে”।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি যুব মোর্চা নেত্রী বলেন, “জামিনের পরও আমাকে আটকে রাখা হল। আমাকে বলা হয় ক্ষমা চাইলে বেরোতে পারবেন। জোর করে দুটো চিঠিও লেখানো হয়েছে, বন্ডে সই করানো হয়েছে। জেলার আমায় ধাক্কা মেরেছে। কারও সঙ্গে কথা বলেতে দেয়নি”।

প্রসঙ্গত, মেট গালায় বলিউড ডিভা প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ছবিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ বসিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন প্রিয়াঙ্কা। স্থানীয় তৃণমূল নেতার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রিয়াঙ্কাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে তোলা হলে, প্রিয়াঙ্কাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই জামিনের আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় প্রিয়াঙ্কার পরিবার। মঙ্গলবার সেই মামলায় প্রিয়াঙ্কাকে মুক্তির নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত।