নয়াদিল্লি: নয়া রিপোর্ট গোয়েন্দাদের হাতে৷ ভারতীয় গোয়েন্দা দফতর সূত্রে খবর পুলওয়ামার ধাঁচে হামলা চালাতে পারে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গিরা৷ তবে এবার নয়া ছক কষেছে তারা৷ তাদের পরিকল্পনা রয়েছে বাইকে করে হামলা চালানোর৷

আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের যে ছক কষেছে জঙ্গিরা, তাতে মোটরবাইক আরোহীদের কথা বলা হয়েছে৷ এরা প্রশিক্ষণ নিয়ে হামলা চালাতে পারে বলে গোয়েন্দাদের দাবি৷ সূত্রের খবর, পুলওয়ামা হামলার পরে গাড়ি চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে৷ পাশাপাশি, উপত্যকা জুড়ে গাড়িগুলিতে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে৷ ফলে এবার গাড়ি নিয়ে নয়, মোটর বাইকে করে হামলা চালাতে সক্রিয় হচ্ছে জঙ্গি সংগঠনগুলি৷

আরও পড়ুন : নষ্ট করে ফেলা হল ৩কোটি টাকার বিয়ার

জানা গিয়েছে, শ্রীনগর ও কুপওয়াড়া জুড়ে সক্রিয় হচ্ছে এই মোটরবাইক আরোহী জঙ্গিরা৷ এদের ছদ্মনাম মোগল বাদশাদের নামে রাখা হচ্ছে বলেও খবর৷ দুপাশে ব্যাগ ঝুলিয়ে এই মোটরবাইকগুলি হামলা চালাবে, ব্যাগে থাকবে উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক, যাতে হামলার অভিঘাত বেশি হয়৷ বাইক যে কোনও জায়গায় সহজেই ঢুকে পড়তে পারে, ফলে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে বাইকের ব্যবহার বাড়বে বলেই আশঙ্কা৷

এর আগে, জম্মু কাশ্মীরের হাইওয়েতে জঙ্গিরা আত্মঘাতী হামলার ছক কষেছে বলে জানা গিয়েছিল৷ গোয়েন্দারা তাদের রিপোর্ট জানায়, সেনা কনভয়ে হামলা হতে পারে৷ তবে এবার গাড়িতে নয় বাইকে চেপে আত্মঘাতী হামলা করতে পারে জঙ্গিরা৷ পুলওয়ামা ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে সাতটা থেকে ৯টা পর্যন্ত সেনা কনভয়ের যাতায়াতের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে৷ শ্রীনগর ও আশেপাশের এলাকাগুলিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা৷

আরও পড়ুন : পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয় দফা ভোটে ১০০শতাংশ বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী

চলতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি এযাবতকালের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সাক্ষী থাকে গোটা দেশ৷ সেনা কনভয়ের উপর আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা হয়৷ ৬০ কেজি ওজনের অত্যন্ত শক্তিশালী আরডিএক্স বিস্ফোরণ ব্যবহার করা হয়েছিল৷ বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে জওয়ানদের দেহ ৭০-৮০ মিটার দুরে ছিটকে পড়ে৷ হামলার দায় স্বীকার করে জইশ-ই-মহম্মদ৷ ২২ বছর বয়সী স্কুলছুট আদিল আহমেদ দারকে হামলার জন্য বেছে নেওয়া হয়৷

জম্মু কাশ্মীরে এমনিতেই হাই অ্যালার্ট জারি আছে৷ নিরাপত্তা কর্মীরা সবসময় সজাগ৷ কিন্তু গোয়েন্দাদের রিপোর্ট পেয়ে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে৷ বিশেষ করে কাঠুয়ায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভার দিন নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়৷ সভায় আসা মানুষদের জন্য নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়৷