নয়াদিল্লি: ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ ডনকেও স্বাগত জানিয়েছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। তাও গোপনে নয়, নাতনির বিয়ের অনুষ্ঠানে। ভারতের এক বহুল প্রচারিত ইংরাজি সংবাদপত্র এমনই রিপোর্ট পেশ করল। সংবাদপত্রের এই রিপোর্টটি একেবারে উড়িয়ে দেওয়াও যাচ্ছে না। কেননা দাউদ ইব্রাহিমের আনাগোনা সম্পর্কে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনী যে তথ্য পেয়েছে, তার সঙ্গে এটি সম্পূর্ণ মিলে যাচ্ছে।

সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুসারে, পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের নাতনির বিয়ের অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২৫ ডিসেম্বর গিয়েছিলেন। ঠিক তার পরদিন অর্থাৎ ২৬ ডিসেম্বর ওই অনুষ্ঠানে যান আন্ডারওয়াল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিম। সে নাকি ওই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত অতিথি ছিল।

তাই নরেন্দ্র মোদী দেশে ফিরে আসার পরদিনই সপরিবারে সেই সময়ে পাক প্রধানমন্ত্রীর নাতনির বিয়ের অনুষ্ঠানে যায় দাউদ। নওয়াজ শরিফও দাউদ ও তার পরিবারকে সাদর অভ্যর্থনা জানান। দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে ভারতের এক বড় ব্যবসায়ী এবং মুম্বইয়েরও কিছু লোক ছিল বলে ওই সংবাদপত্রের রিপোর্টে প্রকাশিত।

ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীও  দাউদ সম্পর্কে যে রিপোর্ট দিয়েছিল, তার সঙ্গে  সংবাদপত্রে প্রকাশিত এই রিপোর্ট অনেকটাই মিলে যাচ্ছে। কেননা, গোয়েন্দা সংস্থার তরফে জানানো হয়েছিল, ২৬ ডিসেম্বর লাহোরে ছিল দাউদ ইব্রাহিম। দাউদ-সঙ্গী ছোটা শাকিলের ফোন ট্র্যাপ করে গোয়েন্দা বাহিনী জানতে পেরেছিল, ২৬ ডিসেম্বর কোনও বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবে দাউদ। কিন্তু কার বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবে তা ঠাহর করতে পারেননি গোয়েন্দারা।

তাঁদের অনুমান ছিল, হয়ত দাউদের নিজের বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠান হতে পারে। তারপর ২৬ ডিসেম্বর দাউদের জন্মদিন অনুষ্ঠানের কথা ঘোষিত হয়েছিল। তখন গোয়েন্দারা ভেবেছিলেন হয়ত জন্মদিন অনুষ্ঠানের ব্যাপারেই ছোটা শাকিলের সঙ্গে দাউদ কথা বলেছে এবং লাহোরে জন্মদিন পালন করবে। যদিও শেষপর্যন্ত গোপনে দাউদের জন্মদিন পালিত হয়। অনুষ্ঠানের কোনও খবরও প্রকাশিত হয়নি। তাই এদিন ইংরাজি সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্টটি যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে ইসলামাবাদের সঙ্গে নয়াদিল্লির দূরত্ব যে আরও প্রকট হবে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।

(আর্কাইভ থেকে)