সুমন বটব্যাল, কলকাতা: অক্টোবরেই দলে যোগ দিচ্ছেন তিনি৷ এটা নিশ্চিত৷ স্বভাবতই তাঁর আগমনে অনেকে উৎসাহিত৷ অনেকে আবার শঙ্কিত৷ কারণ তাঁরা বিলক্ষণ এটা জানেন, তাঁর মতো দুঁদে রাজনীতিকের সঙ্গে টেক্কা দিতে গেলে ‘হালে পানি পাওয়া’ মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে৷ তাই পদ হারানোর ভয়ে সংশ্লিষ্ট অংশ চাইছেন না কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁকে দল নিতে রাজি হোক৷

তিনি মুকুল রায়৷ তৃণমূলের ‘প্রাক্তন’ সেকেন্ড ইন কমান্ড৷ আপাতত তাঁকে ঘিরেই দিনভর জোর চর্চা চলছে ৬ মুরলীধর সেন লেনে৷ রাজ্য বিজেপির অন্দরের হালটা এমনই৷ বিজেপি সূত্রের খবর, দলে মুকুল রায়ের যোগদান চূড়ান্ত৷ তবে এখনই রাজ্য কমিটি ভাঙা হচ্ছে না৷ দলের কেন্দ্রীয়স্তরের এক নেতার কথায়, ‘‘আপাতত কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এরাজ্যে সংগঠন গড়ার কাজ শুরু করবেন মুকুল রায়৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে সামনের বছরের গোড়াতেই নতুন করে রাজ্য কমিটি তৈরি হবে৷ রাজ্য থেকে জেলা সভাপতি, সহ সভাপতি সহ আগাগোড়া সমগ্র কমিটিতেই বদল ঘটবে৷’’

মুকুল রায়ের পরামর্শ মেনেই যে এই ‘রদবদল’ ঘটবে তাও প্রকারন্তরে স্পষ্ট করেছেন ওই সদস্য৷ তাঁর কথায়, ‘‘এরাজ্যে আরএসএসের তেমন সংগঠন নেই৷ সেদিক থেকে দেখতে গেলে এই মুহুর্তে বিজেপি-র সংগঠন কিছুটা হলেও বিক্ষিপ্তভাবে তৈরি হচ্ছে৷ তাই নয়া কমিটিতে আরএসএস দেখে নয়, যোগ্যতার নিরিখেই পদ দেওয়া হবে৷’’
প্রসঙ্গত, দিলীপ ঘোষ রাজ্য সভাপতি থাকাকালীনই গত বছরের বিধানসভা নির্বাচনে এরাজ্য থেকে তিনটি আসনে জয়ী হয় বিজেপি৷ এই মুহুর্তে দলের রাজ্য সভাপতির পাশাপাশি খড়গপুরের বিধায়কও দিলীপবাবু৷ আরএসএসের পক্ষ থেকে তিনি আন্দামান, নিকবরেরও দায়িত্বে রয়েছেন৷ যদিও দলের একটা বড় অংশই মনে করেন, যে এবারই বিধানসভা নির্বাচনে এরাজ্যে বিজেপি তিনটি আসন পাওয়ার পিছনে একা দিলীপ ঘোষের কোনও কৃতিত্ব নেই৷ বরং যেটুকু কাজ করেছে, তা হল ‘মোদী ঝড়’৷

দলের রাজ্য কমিটির এক সদস্যর কথায়, ‘‘রাহুল সিনহা কিংবা দিলীপ ঘোষ কেউই এরাজ্যে বিশেষ সংগঠন গড়তে পারেননি৷’’ আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়, দলের নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়, রাজ্যসভার সদস্য রূপা গঙ্গোপাধ্যায়দের নামোল্লেখ করেই রাজ্য কমিটির ওই সদস্য বলছেন, ‘‘ব্যক্তিগতভাবে সংগঠন তৈরির ক্ষমতা কারও নেই৷’’ একই সঙ্গে মুকুল রায়ের প্রসঙ্গ টেনে বললেন, ‘‘মুকুল রায় ছিলেন বলেই আজ বাংলায় রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে তৃণমূল৷ স্বাভাবিকভাবেই ওঁনার মতো দক্ষ সংগঠক গুরুত্ব পাবেন না তো কে পাবেন?’’
স্বভাবতই, কাঁচরাপাড়ার দুঁদে রাজনীতির বিজেপিতে যোগদানকে কেন্দ্র করে একাংশ যেমন উৎফুল্ল তেমনই আরেকাংশ পদ হারানোর ভয়ে শঙ্কিত৷ যদিও এই প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে চাননি বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।