মুম্বই: সেটা আশঙ্কা করে হয়েছিল সেটাই ঘটতে চলেছে। আগামী শুক্রবারই মুক্তি পেতে চলেছে ধোনির বায়োপিক ‘এম এস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’। আর এই ছবির উপর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল পাকিস্তান।

সূত্রের খবর, পাকিস্তানের একটি ডিস্ট্রিবিউটর কোম্পানি আইএমজিসি গ্লোবাল এন্টারটেইনমেন্ট ধোনির বায়োপিক বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেদেশের সমস্ত সিনেমা হলে ছবিটি দেখানো হবে না, এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

উরি হামলার ঘটনার পরই পাকিস্তানি শিল্পীদের এ দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেয় মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা। হুমকি দেয়, পাকিস্তানি তারকাদের অভিনীত সিনেমা এ দেশে মুক্তি পেতে দেওয়া হবে না। এর জেরেই পাক ডিস্ট্রিবিউটররা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পাকিস্তানে ধোনির বায়োপিক কোনও সিনেমা হলে চলতে দেওয়া হবে না।

পাকিস্তানে ধোনির বায়োপিক মুক্তি না পেলে এর প্রভাব পড়বে ছবির বক্স অফিসে। কারণ, পাকিস্তান বলিউডের তৃতীয় সর্বোচ্চ বৈদেশিক বাজার। তবে জানিয়ে রাখি, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তে আখেরে ক্ষতি হতে চলেছে তাঁদেরই।ভারতে সেনা শিবিরে হামলার পর দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে যুদ্ধের পরিস্থিতি। প্রতিবাদে পাক-শিল্পীদের ভারত ছাড়ার হুমকি দিয়েছে, বাল ঠাকরের দল মহারাষ্ট্র নবনির্মান সেনা। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে, পাকিস্তানে নিষিদ্ধ হতে পারে বলিউডি সিনেমা। যা অনেকটা নিজের পায়ে কুঠারি মারার মতো। কারণ পাকিস্তানে বলিউডের সিনেমা রিলিজ না করলে ভারতের বিশেষ কোনও ক্ষতি হবে না। কিন্তু পাক-সিনে-দুনিয়ায় এসে পড়বে বড় ধরনের ধাক্কা। যা সামলে ওঠার মতো নয়। ডিস্টিবিউটার নাদিম মান্ডিওয়ালার কথায়, ” বিগত কয়েক বছর তরে পাকিস্তানে বলিউডি সিনেমার একটা ক্রেজ তৈরি হয়েছে। তাই এখন যদি ভারতের সিনেমা পাকিস্তানে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে প্রায় ৭০ শতাংশ লসে চলবে পাক-সিনে-দুনিয়ায়। যার ফলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে অনেক সিনেমাহল”।

পাকিস্তানি ফিল্ম ক্রিটিক্স ওমর আলাভির জানান, ” যদিও পাক-ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি এখন অনেকটাই উন্নতির দিকে। বছর ভরে অনেক সিনেমাই মুক্তি পায়। তবে লাভের মুখ দেখতে গেলে বছরের ৫০ থেকে ৬০টি ছবির দরকার। এই মুহূর্তে সেই ক্ষমতাটা পাক সিনে-দুনিয়ায় নেই”।