কলকাতা:

“আরে চড় গেয়া উপর রে
আটারিয়া পে সোনা কবুতর রে হে”

ব্রিগেডে বিজেপির মঞ্চে মিঠুন। উগরে দিচ্ছেন গরম গরম ডায়লগ- আমি যা বলি, তা করে দেখাই। আমি জলঢোড়াও নয়, বেলোবোড়াও নই। আমি একটা কোবরা। আমি জাত গোখরো। এক ছোবলে ছবি। এ বার কিন্তু সেটাই হবে।

এরপরেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ফের ঝলক দিতে শুরু করল মিঠুন অভিনীত সুপারহিট হিন্দি ছবি ‘দালাল’ এর পোস্টার ও সেই জনপ্রিয় গান “আরে চড় গেয়া উপর রে…আটারিয়া পে সোনা কবুতর রে হে”।

১৯৯৩ সালে মুক্তি পায় মিঠুন ও আয়েশা জুলকা অভিনীত দালাল। পার্থ ঘোষের পরিচালিত এই ছবি মিঠুন ভক্তদের মধ্যে বিপুল সাড়া ফেলেছিল। ছবির সুরকার বাপ্পী লাহিড়ি। খ্যাতনামা সুরকার তিনি। তাঁর সুরের গুটুর গুটুর গানটি প্রবল আলোড়ন ও বিতর্ক তৈরি করেছিল।

হিন্দি ছবি দালাল এর এই গানটি বাংলাতেও অনুবাদ হয় “চইড়া গেল উপরে, চালের পরে সোনা কবুতর রে…”। বাংলা গানটিও বিপুল জনপ্রিয়তা পায়।

মিঠুন তখন বাম সমর্থক। রাজ্যে বাম সরকার চলছে। তৎকালীন মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ মিঠুন চক্রবর্তী। অভিনেতা হিসেবে মুম্বই ফিল্ম দুনিয়ায় নিজস্ব রাজত্ব তৈরি করেছেন আগেই। তবে ২০০৯ সালে সুভাষ চক্রবর্তীর প্রয়াণের পর বেলগাছিয়া পূর্ব কেন্দ্রে বামেরা তাদের প্রার্থী সুভাষ পত্নী রমলা চক্রবর্তীর হয়ে মিঠুন কে নামায়। তিনিও সিপিআইএমের পতাকা দেওয়া গাড়িতে প্রচার করেন। তবে বেলগাছিয়া হাতছাড়া হয় বামেদের।

মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে সিপিআইএমের দূরত্ব বাড়তে থাকে ২০১১ সালে বাম জমানার পতনের পরে। তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসতেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হন। ২০১৪ সালে মিঠুন কে দেখা গেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই গাড়িতে। চারিদিকে জোড়াফুল পতাকা। দুজনেই হাত নাড়ছেন। সেই বছরেই তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হন মিঠুন।

মাঝের সময়ে আর্থিক কেলেঙ্কারি বিতর্ক- সেই সময়ে মমতার সঙ্গে মিঠুনের দূরত্ব বেড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে দূরে সরে রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেন। গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে বিরাট ধাক্কা দেয় বিজেপি। এর পর থেকে বিজেপির সঙ্গে নৈকট্য বাড়িয়ে দেন মিঠুন। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ব্রিগেডে মোদীর জনসভায় বিজেপিতে সরাসরি যোগদান করলেন তিনি।

এই পরিবর্তন নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের ঝড় তুলেছে দালাল ছবি। সেখানে আয়েশা জুলকার সঙ্গে সেই মিঠুন কে গুটুর গুটুর করে নাচতে দেখা যাচ্ছে। শুরু হয়েছে কটাক্ষের পালা।

অভিনেতা মিঠুনের অনুরাগীরাও কটাক্ষ করছেন। প্রশ্ন উঠছে, বারবার রাজনৈতিক রং পাল্টে তিনি কি বিখ্যাত সিনেমার নামটি স্বার্থক করছেন? সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে নব্বই দশকের ‘দালাল’ ঝড়।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।