লখনউ: জয়ের স্বপ্ন নিয়ে হাত ধরেছিল উত্তরপ্রদেশের দুই রাজনৈতিক শক্তি। কিন্তু ভোটের ফলে মাথায় হাত পড়েছে দুই দলেরই নেতৃত্বের। তাই ফল বেরতেই মধুচন্দ্রিমা শেষ। মাআবতী জোট ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আগেই। এবার সেই একই পথে অখিলেশ যাদব।

মায়াবতীর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অখিলেশ যাদব জানান, তাঁর দল ১১টি আসনে উপ নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘‘যদি জোট ভেঙে যায়, তাহলে আমরা একাই লড়ব।”

আসলে ফলাফলে বিপর্যয়ের ব্যাপারে মায়াবতীর স্পষ্ট অভিযোগ সমাজবাদী পার্টির দিকে। জানাচ্ছেন, এখানে বিজেপি কখনওই ভোটের সময় সুবিধা পায়নি। মায়াবতী বলেন, ‘‘নিজেদের ভোট হারানো আমাদের উচিত নয়। এমনকী, শক্তিশালী প্রার্থীরাও হেরেছে। এমনকি ডিম্পল যাদবকেও জেতানো যায়নি।” তাই ভাবনা চিন্তা করতে হবে বলে জানান মায়াবতী।

মঙ্গলবার সকালে মায়াবতী জানিয়ে দেন, অখিলেশ যাদবের সঙ্গে তাঁর জোট জাতীয় নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়ায় উত্তরপ্রদেশের উপ নির্বাচনে ১১টি আসন থেকে তাঁর দল বহুজন সমাজ পার্টি বা বিএসপি একাই লড়বে। মায়াবতী বলেন, ‘‘আমরা রাজনৈতিক বাস্তব অস্বীকার করতে পারি না।” তিনি জানিয়েছেন, আপাতত সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট থেকে তিনি একটি ‘ব্রেক’ নিচ্ছেন। ‘‘এটা কোনও স্থায়ী বিচ্ছেদ নয়।” তিনি বলেন, সমাজবাদী পার্টি তাদের ক্যাডারদের ব্যাপারে একটু উন্নতি করুক।

তিনি আরও বলেন, ‘‘উত্তরপ্রদেশে জমি ফিরে পেতেই আমরা সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট গড়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেটা কাজ করেনি। আমরা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছি।”

বিজেপিকে রুখতে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করেছিল সপা এবং বিএসপি। দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের যৌথ সাংবাদিক বৈঠক ভারতের রাজনীতির নয়া ইতিহাস রচনা করেছিল।

সূত্রের খবর, মায়াবতীর এখন এই জোটকে ‘ফালতু’ বলে মনে হয়েছে৷ কারণ, ভোটের ফল পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন যাদব ভোটের একটিও তাঁর দল পায়নি৷ তাস্বত্ত্বেও গতবার শূন্য আসন পাওয়া মায়াবতীর দল এবার ১০টি আসন পায়৷ এই লোকসভা ভোটে অখিলেশের পরিবার থেকেও মুখ ফিরিয়েছেন যাদবরা৷ তিনি মনে করেন, অখিলেশের কাকা শিবপাল যাদব ও কংগ্রেসের ভোট কাটাকাটি হয়েছে৷ সব পর্যবেক্ষণ করেই মায়াবতী জোট থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷

আর এই মহাজোটের ক্ষতির অংশ সবথেকে বেশি যদি কারোর হয়ে থাকে তিনি অখিলেশ যাদব৷ এবারের ভোটে মাত্র পাঁচটি আসন পায় তাঁর দল৷ অখিলেশের স্ত্রী ডিম্পল ভোটে হেরেছেন৷ যাদব পরিবারের আরও দুই সদস্য অক্ষয় ও ধর্মেন্দ্র যাদব জিততে পারেননি৷