কোলাঘাট(পূর্ব মেদিনীপুর): কে মানে করোনার দূরত্ববিধি। সব উড়ে গিয়েছে জয়ের আনন্দে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বার সরকার গড়তেই পূর্ব মেদিনীপুর জুড়ে উল্লাসে মাতোয়ারা টিএমসি সমর্থকরা। ফল ঘোষণার সাথে সাথে জেলায় অধিকারী পরিবারের রাজনীতি শেষ হয়েছিল। বাকি ছিল শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে আক্রোশ মেটানোর পালা। কুশপুতুলে জুতো পেটা করে সেই ক্ষোভ মেটালেন তৃণমূল সমর্থকরা।

কোলাঘাটে পুড়ল নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর কুশপুতুল। টি়এমসি সমর্থকদের দাবি ওর মুখে আগুন ধরানো হয়েছে। এর পরেই শুরু হলো মিষ্টি বিতরণ।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম কেন্দ্র। এই জেলা থেকেই টিএমসির শক্তি উঠে এসেছে বাম জমানার নন্দীগ্রামে গুলিচালনার ঘটনা ও নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে। সেই নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে মু়খ্যমন্ত্রী ও টিএমসি সুপ্রিমো পরাজিত হয়েছেন। জিতেছেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। গণনায় কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। তবে মমতা হারলেও রাজ্যে তৃণমূল সরকার গড়েছে।

টিএমসি থেকে বিজেপি চলে যাওয়া সব নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গদ্দার। সেই অর্থে নন্দীগ্রাম আন্দোলনে তৃণমূল নেত্রীর সহযোগী শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর পরিবারও। ভোটে নন্দীগ্রামে মমতা হারলেও বিজেপি থাকল বিরোধী আসনে।

ভোট পরবর্তী হিংসাত্মক ঘটনায় রাজ্য উত্তপ্ত। মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ১২ জন। বিভিন্ন জেলায় চলছে সংঘর্ষ। পূর্ব মেদিনীপুরের বেশকিছু এলাকাতেও সংঘর্ষ হয়েছে। টিএমসির প্রবল ক্ষোভ শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি। ফলে তাঁর কুশপুতুলে আগুন ধরানোর জন্য উৎসাহ ছিল। দলীয় স্লোগানের পাশাপাশি গদ্দার গদ্দার ধ্বনিতে শুভেন্দুবাবুর কুশপুতুলের মুখে আগুন দিলেন তৃণমূল সমর্থকরা।

নির্বাচনের ফলে ইঙ্গিত দিচ্ছে জেলায় শুভেন্দু অধিকারীর ‘রাজ’ খতম। নির্বাচনের আগে তৃণমূল নেত্রীর দুটি বিস্ফোরক দাবির একটি ছিল, এই জেলায় আসার জন্য তাঁকে অনুমতি নিতে হতো। দ্বিতীয় দাবি ছিল, নন্দীগ্রামে বাপ ব্যাটার নির্দেশে গুলি চলেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দাবির পরে নন্দীগ্রাম কাণ্ড নতুন মোড় নেয়। যাবতীয় অভিযোগ সিপিআইএম ও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের দিক থেকে ঘুরে যায়। যদিও মমতার দাবি উড়িয়ে দেন শুভেন্দুবাবুর পিতা শিশির অধিকারী। তিনি ভোটের আগে সদ্য বিজেপি হন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.