কাঠমান্ডু : বাড়ি-ঘর আছে। কিন্তু থাকার মতো পরিস্থতি নেই। দেওয়াল জুড়ে বিরাট ফাটল। ভিত নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। আবার কখন মাটি কেঁপে উঠলেই মাথার উপর হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়বে কে জানে!

ত্রাণ আসছে। কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। বা এলেও দুর্গত এলাকায় পৌঁছচ্ছে না। প্রবল বৃষ্টির কারণে জায়গায়-জায়গায় ধ্বস নেমেছে। দুর্যোগ চলছেই সমানে। ফলে উদ্ধারকারী টিম এলেও খাবার-দাবার নিয়ে পৌঁছতে পারছেন না। জল নেই। ওষুধ নেই।

নেপাল জুড়ে এখন শুধুই হাহাকার। খোলা মাঠের উপরে ত্রিপল বিছিয়ে, তাঁবু খাটিয়ে রয়েছেন মানুষজন। যেটুকু যা জুটেছে, সপরিবারে রান্না করে তা-ই খাচ্ছেন। দু’দিন পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি অধিবাসীরা। আবহাওয়া দফতর প্রবল ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিলেও, সোমবার সকালে সূর্যের মুখ দেখা গিয়েছে। সামান্য হলেও আবহাওয়ার উন্নতি হয়েছে। দু একটা দোকান খুলেছে। খবর এলো বহুদূরে একটা ওষুধের দোকান খুলেছে। সঙ্গে সঙ্গে হাজার জন ভিড় করলেন সেখানে। বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্য দীপক পান্ডা এই পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বললেন, ‘ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াইয়ের চেষ্টা চলছে। কিন্তু বহু এলাকা এমন হয়ে রয়েছে যেখানে সেনা জওয়ানরা পৌঁছতে পারছেন না। পর্বতের পাদদেশে এমন বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে যে, হেলিকপ্টারও নামতে পারছে না’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এমনিতেই নেপালে চিকিৎসা পরিকাঠামো অত্যাধুনিক নয়। জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎসক এবং হাসপাতালের বেডের সংখ্যা কম। তার ওপর এখন দেশজুড়ে এই ভয়াবহ সংকট চলছে। স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি চাপ সামাল দিতে কিছুটা সমস্যা তো হচ্ছেই।