কলকাতা ও আগরতলা: লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা থেকে তীব্র রাজনৈতিক হামলার সংবাদ আসতে শুরু করেছে৷ কোচবিহার, উত্তর ২৪ পরগনা, পুরুলিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় দফতর আক্রান্ত হচ্ছে৷ লোকসভার ফলে বিজেপির বড় সাফল্যের পরেই হামলা তীব্র হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের৷ অন্যদিকে ত্রিপুরায় বাম কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর ও কংগ্রেস কর্মীকে খুনের চেষ্টা ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি৷ বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ৷ তবে তা অস্বীকার করেছে তারা৷

উত্তপ্ত বাংলা: কোচবিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তীব্র উত্তেজনাময়৷ সিতাই এলাকায় একাধিক তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয় দখল করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে৷ লোকসভা আসনটি হারিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ এখানকার পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত শাসক দলের নেতারা৷ উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক এলাকা থেকে আসছে রাজনৈতিক সংঘর্ষের খবর৷ লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই ভাটপাড়া রণক্ষেত্র৷ এখানে মূলত সংঘর্ষে জড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি৷ যদিও দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনেছে৷

বেশ কিছু এলাকার জনজীবনে ছড়িয়েছে ভয়৷ উত্তপ্ত ভাঙড় এলাকা৷ এখানে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে উঠেছে স্থানীয় বাম ও বিজেপি সমর্থকদের উপর হামলার অভিযোগ৷ অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাংলার শাসকদল৷ পুরুলিয়া থেকেও এসেছে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের খবর৷ আদ্রায় গুলি চালানোর ঘটনায় ছড়িয়েছে আতঙ্ক৷

রক্তাক্ত ত্রিপুরা: ফলাফল ঘোষণার পরেই কংগ্রেস নেতাকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে৷ ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলে৷ অন্যতম উত্তপ্ত এলাকা হল বিশালগড়৷ স্থানীয় কৃষ্ণকিশোর নগরে বাড়ি বাড়ি ঢুকে বিরোধী দলের কর্মী সমর্থকদের মারধর করার অভিযোগে বিদ্ধ শাসক বিজেপি৷ স্থানীয় ব্লক কংগ্রেস সভাপতি হারাধন দেবনাথকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করা হল৷ গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে ভরতি করা হয়েছে হাসপাতালে৷ একাধিক বাম নেতা কর্মীর বাড়ি আক্রান্ত৷

রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিএম ও অন্যতম বিরোধী কংগ্রেসের অভিযোগ, ফলাফল ঘোষণার শুরু থেকেই আগরতলায় গণনা কেন্দ্রে বিজেপির হামলার মুখে পড়তে হয়েছে দলীয় কর্মীদের৷ রাজধানী শহর আগরতলার লেক চৌমুহনী বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী আক্রান্ত হয়েছেন৷ মার্কেট চত্বরে হয়েছে ভাঙচুর৷ একাধিক বাম নেতাকর্মীর বাড়ি আক্রান্ত৷ বৃহস্পতিবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে বাড়ি বাড়ি ভাঙচুর৷ তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি৷
নির্বাচনের আগে থেকেই বারে বারে রাজনৈতিক হামলার অভিযোগ উঠেছিল বিজেপির বিরুদ্ধে৷

ভোটে ব্যাপক রিগিংয়ের অভিযোগ তোলে বিরোধী সিপিএম ও কংগ্রেস৷ রাজ্যের দুটি আসনের একটিতে পুনঃনির্বাচন করায় নির্বাচন কমিশন৷ অন্য একটি কেন্দ্রে ভোট পিছিয়ে দিতে হয়৷ এদিকে ফল ঘোষণার পরে দুটি কেন্দ্রেই বিজেপি জয়ী হয়েছে৷ দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে কংগ্রেস৷