ইসলামাবাদ: কিরঘিজস্তানে এসসিও সামিটে যোগ দিতে গেলে পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার জরুরি৷ সেই ইস্যুতে পাক আকাশপথ দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিমানকে ব্যবহার করতে দেওয়া হোক, আবেদন করেছিল নয়াদিল্লি৷ কারণ বালাকোট এয়ার স্ট্রাইকের পর থেকেই ভারতীয় বিমানগুলির জন্য বন্ধ পাকিস্তানের আকাশপথ৷

সেই জটিলতা কাটিয়ে সৌজন্যের হাত পাকিস্তানের৷ ইসলামাবাদ জানিয়ে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদীর বিমান তাদের আকাশপথ ব্যবহার করতে পারবে৷ এরফলে বিমানের রুট বদলের প্রয়োজন পড়ল না৷ ৯ই জুন ইসলামাবাদকে এই আবেদন জানিয়েছিল নয়াদিল্লি৷ তার একদিনের মধ্যেই ইমরান খান সরকার জানিয়ে দেয়, নরেন্দ্র মোদীর বিমানের জন্য খুলে দেওয়া হবে পাক আকাশপথ৷

কিরঘিজস্তানের বিসকেকে ১৩ থেকে ১৪ই জুন এসসিও সামিটে যোগ দেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর৷ এই সামিটে যোগ দিতে গেলে পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার বাধ্যতামূলক৷ কারণ বিমানের রুটেই পড়ছে পাকিস্তানের আকাশপথ৷ উচ্চপদস্থ এক সরকারি আধিকারিক জানান, ইসলামাবাদের কাছে নয়াদিল্লির আবেদন ছিল মোদীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের জন্য যেন তাদের আকাশপথ খুলে দেওয়া হয়৷

আরও পড়ুন : মূর্তি উন্মোচনে আমন্ত্রণ নেই, অসন্তুষ্ট বিদ্যাসাগর কলেজের শিক্ষক, প্রাক্তনীরা

সোমবার রাতে সংবাদসংস্থা পিটিআইকে এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, নয়াদিল্লির আবেদন মেনে নিয়েছে ইসলামাবাদ৷ প্রধানমন্ত্রীর বিমান পাকিস্তানের ওপর দিয়ে ওড়ার অনুমতি পেয়েছে৷

এদিকে এর আগে জানানো হয়েছিল ভারতের জন্য পাকিস্তানের আকাশপথ বন্ধের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে৷ ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে জানানো হয় ১৪ই জুন পর্যন্ত পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার করতে পারবে না ভারত৷ ১৬ই মে জানানো হয়েছিল ৩০শে মে পর্যন্ত আকাশপথ বন্ধ থাকার কথা৷ কিন্তু সেই সময়সীমা পরে বাড়ানো হয়৷

পাকিস্তান নিজের আকাশপথ ব্যবহার ভারতের জন্য বন্ধ করেছিল ফেব্রুয়ারি মাসে৷ বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার এয়ারস্ট্রাইকের পর থেকেই পাকিস্তান নিজের আকাশপথের ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে৷ ২৬ ফেব্রুয়ারি বালাকোটে জইশ-ই-মহম্মদের ক্যাম্পে ভারতীয় বায়ুসেনার এয়ারস্ট্রাইক করে৷ তবে ২৭ মার্চ সেই নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল করে পাক সরকার৷ কেবলমাত্র নয়াদিল্লি, ব্যাংকক ও কুয়ালালামপুর ছাড়া সব বিমান ওড়ার অনুমতি দেওয়া হয়৷

আরও পড়ুন : ভোপাল ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীর কড়া শাস্তির দাবি শিবরাজের

১৪ ই জুন পর্যন্ত পাকিস্তানের আকাশপথ ভারতীয় বিমানের জন্য বন্ধ করার ঘোষণা আগেই করেছিল পাকিস্তান৷ সেই প্রেক্ষিতে নয়া আবেদন করেছিল ভারত৷

উল্লেখ্য ২১ শে মে পাকিস্তান ভারতের তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের এসসিও সামিটের জন্য নিজেদের আকাশপথ খুলে দিয়েছিল৷ পাকিস্তানের ওপর দিয়েই সরাসরি কিরঘিজস্থানের উদ্দ্যেশ্যে উড়ে গিয়েছিল সুষমা স্বরাজের বিমান৷ দক্ষিণ পাকিস্তানের ওপর দিয়ে কিরঘিজস্তানের উদ্দ্যেশ্যে যাওয়া বিমানের রুটটি গুরুত্বপূর্ণ ভারতের কাছে৷ তাই এই আবেদন করেছিল ভারত৷