স্বাধীনতার পর প্রথম স্বাস্থ্য কেন্দ্র পেল ভূতনীচর

0

রাহুল মণ্ডল, ইংরেজবাজার: স্বাধীনতার পর এই প্রথম প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পেল ভূতনীচর৷ নদীবেষ্টিত এই দ্বীপে প্রায় দু’লক্ষ মানুষের বাসবাস৷ মুখ্যমন্ত্রী নিজেও বিধানসভা ভোট প্রচারে এসেছিলেন এই ভূতনীচরে। নির্বাচনী প্রচার মঞ্চ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়েছিলে, ভূতনীচরের বাসিন্দাদের চিকিৎসার জন্য নদী পার করে আর মানিকচক যেতে হবে না৷

স্বাধীনতার ৬৯ বছর আজ মঙ্গলবার মালদহের মানিকচকের গঙ্গার বুকে গজিয়ে ওঠা ভূতনীচরে পেল প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র। মঙ্গলবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক শরৎ কু দ্বিবেদী, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক দিলীপ মণ্ডল,মানিকচক ব্লক সমষ্টি আধিকারিক উৎপল মুখার্জি, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়দীপ মজুমদার, জেলা পরিষদ সদস্য গৌর চন্দ্র মণ্ডল৷ এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্মী ও এলাকার সাধারণ মানুষ।

বর্তমানে এই প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দুইজন ডাক্তার, চারজন নার্স,দুটো সুইপার নিযুক্ত করা হয়েছে। এই চিকিৎসা কর্মীরা হাসপাতাল চত্বরে আবাসনে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। ১০টি বেড বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টার প্রসূতি মায়েদের প্রসবের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
উদ্বোধনের পর জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক দিলীপ মণ্ডল বলেন, ‘‘এলাকাবাসীর দাবি ছিল দীর্ঘদিনের৷ সেমতই তাঁদের সমস্যার কথা মাথায় রেখে আজ এই প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্বোধন হল। আগে এখানে বহির্বিভাগ পরিষেবা চলতো আজ থেকে অন্তবিভাগের সূচনা হল। প্রসূতি মায়েদের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত সুবহিদার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চিকিৎসা কর্মীরা আবাসনে থেকেই হাসপাতাল পরিচালনা করবে। এলাকার মানুষকে হাসপাতালে প্রসব করানোর প্রচার করা হবে। যাতে চরবাসী আর বাড়িতে বা হাতুড়ে ডাক্তারের সাহায্যে প্রসব না করায়।’’

স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য গৌড় চন্দ্র মণ্ডল জানান, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী ভূতনীচরের মানুষকে খুব ভালোবাসেন। তিনি ভোট প্রচারে ভূত-নীতে এসে ভূতনীবাসীকে কথা দিয়ে ছিলেন, তাঁদের সমস্ত সরকারি সুবিধা ব্যবস্থা করবেন। এই প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র তাঁর একটি অংশ। আমরা খুব স্বাধীনতার পর ভূতনীতে হাসপাতাল পয়ে।’’ তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের সঙ্গে গ্রামের যোগাযোগ রাস্তাগুলিকে আরও উন্নত করবে।

দীর্ঘ দাবির পর এলাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্র পেয়ে খুশি স্থানীয়রা৷ এলাকায় হাসপাতাল না থাকায় সামান্য চিকিৎসার জন্য ফুলাহার নদী পার করে প্রায় ১০কিমি মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে যেতে হতো। আজ, এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্বোধন হওয়ায় আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷