স্টাফ রিপোর্টার, দীঘা: হাওড়ার পর দীঘা৷ জনসংযোগ মমতার৷ দিঘা দত্তপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের অভাব অভিযোগ শুনলেন৷ গরীবদের ঘর করে দেওয়া প্রতিশ্রুতিও দিলেন৷

বুধবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীঘা দত্তপুরে যান৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন ৷ তাঁদের অভাব অভিযোগও শোনেন মন দিয়ে৷ এরই মধ্যে চায়ের দোকানে গিয়ে চা বানালেন৷ সেই চা উপস্থিত সবাইকে খাওয়ালেন৷ শিশুদের হাতে তোলে দিলেন চকলেট৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিলি করলেন শাড়ী৷ গরীবদের ঘর তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন৷ খোঁজ নিলেন তারা ঠিকমতন রেশন পান কিনা৷ মুখ্যমন্ত্রীকে হাতের কাছে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের ক্ষোভের কথা জানালেন৷ অভিযোগ, ১৫ দিনে তারা মাত্র একবার রেশন পান৷

এর আগে হাওড়ায় যাওয়ার পথে তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন এক বস্তিতে। সেখান ঘরে ঢুকে বস্তিবাসীর খাওয়া-পরার খোঁজ নিয়েছেন তিনি। সেদিনও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পানীয় জল ও শৌচালয় নিয়ে অসুবিধের কথা জানান এলাকার বাসিন্দারা। মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁরা জানান, ৪০০ জন বস্তিবাসীর জন্য মাত্র দুটো বাথরুম। একথা শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মমতা। সঙ্গে সঙ্গে এই পরিস্থিতি শুধরে নেওয়ার কথা বলেন৷ এবং হাওড়া পুরসভার প্রশাসককে কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, “৭ দিনের মধ্যে সমস্ত জায়গা পুরসভা ঘুরে দেখবেন।” বস্তিগুলোর কী অবস্থা? কেন কাউন্সিলররা দেখেননি? প্রশ্ন করেন মুখ্যমন্ত্রী। হাওড়া শহরে পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থা বা জঞ্জাল অপসারণ ব্যবস্থা নিয়েও ক্ষোভপ্রকাশ করতে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

উল্লেখ্য, রাজ্যে প্রথম ক্ষমতায় এসেই দীঘাকে গোয়া বানানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ গত আট বছরে গোয়া না হলেও দিঘার অনেক পরিবর্তন হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি দিঘার সৌন্দর্যায়নে কোনও খামতি রাখতে চাননা৷ মঙ্গলবার কনভেনশন সেন্টারের উদ্বোধনে গিয়ে তিনি আরও একটি নতুন ঘোষণা করলেন৷ জানালেন, আগামী দিনে দিঘার সমুদ্রে সি-প্লেন নামানোর কথা ভাবছেন তিনি৷ সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দিঘাতে শীঘ্রই আন্তর্জাতিক মানের দুটি পার্কিং প্লাজা তৈরি হবে।

এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়াই রাজ্য সরকার তাজপুরে সমুদ্র বন্দর তৈরি করবে৷ এটা তৈরি হলে দিঘা, শঙ্করপুর, হলদিয়ার গুরুত্ব আরও বাড়বে। মহিষাদলে গান্ধিজীর নামে বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে। পিছাবনীতে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নামে স্মারক ও মিউজিয়াম নির্মাণ হবে।” তাঁর নির্দেশ, সমুদ্রের ধার ঘেঁষে ও পরিবেশ নষ্ট না করে কাউকে বসানো যাবে না। তিনি থানার আইসি ও ওসি এবং দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের আধিকারিকদের এ ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন।