বাসুদেব ঘোষ, সিউড়ি: ‘জন, জামাই, ভাগনা৷ তিন নয় আপনা৷’

এই প্রবাদেরই যেন হাতেনাতে প্রমাণ মিলল সোমবার৷ যে জামাইকে তিনদিন আদর যত্ন করে রাখলেন শ্বশুর-শাশুড়ি, সুযোগ বুঝে সেই জামাই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে অস্বীকার করল৷

আরও পড়ুন: সেট থেকে দূরে স্বামীর জন্মদিন পালন করলেন রানি

আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্যত হুলস্থুল বাঁধল বীরভূমের সিউড়ি জেলা আদালত চত্বরে৷ পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে শ্বশুরবাড়ি ফিরতে আদালত চত্বরের মধ্যেই কাঁদতে শুরু করেন ওই মহিলা৷ সটান চলে যান বিচারকের কাছে৷

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলার নাম ঐশ্বর্য৷ মাস দশেক আগে মল্লারপুরের কৌশিক চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়৷ সম্প্রতি তিনি বধূ নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেন থানায়৷ তার পর তাঁর স্বামী আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন৷

আরও পড়ুন: বন্যার পর এবার ভূমিকম্পের কোপে ভারতের এই রাজ্যে

বৃহস্পতিবার ওই মামলার শুনানি ছিল৷ বিচারক পার্থসারথী সেন নির্দেশ দেন, কৌশিককে তিনদিন জামাই আদর করে রাখতে হবে শ্বশুরবাড়িতে৷ এই সময়ের মধ্যে কৌশিক ও ঐশ্বর্য নিজেদের মধ্যে সমস্যা মিটিয়ে নেবেন৷ সোমবার মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে তিনি জানান৷

সেই মতো সোমবার ওই দম্পতি আদালতে হাজির হন৷ আদালত সূত্রে খবর, বিচারক ঐশ্বর্যর কাছে জানতে চান তাঁর স্বামীকে জামিন দেওয়া উচিত কি না৷ ঐশ্বর্যর সম্মতি পেয়েই বিচারক কৌশিককে জামিন দেন৷

আরও পড়ুন: দ্বীপরাষ্ট্রে টি-২০ সিরিজ জয় মিতালিদের

ঐশ্বর্যর অভিযোগ, আদালতের বাইরে এসেই কৌশিক মত বদলে ফেলেন৷ তিনি জানিয়ে দেন ঐশ্বর্যকে আর ঘরে ফেরাতে পারবেন না৷ একথা বলেই তিনি সেখান থেকে চলে যান৷

এর পর আদালত চত্বরেই ঐশ্বর্য কান্নায় ভেঙে পড়েন৷ সোজা চলে যান বিচারকের কাছে৷ পরিস্থিতির কথা সব জানান৷ এর পর বিচারকের তরফে ফের ডেকে পাঠানো হয় কৌশিককে৷ সেখানে তিনি স্ত্রীকে ঘরে ফেরানোর জন্য মুচলেকা দিয়ে তবেই ছাড়া পান৷ এর পর স্ত্রীকে নিয়েই আদালত থেকে বেরিয়ে বাড়ির পথে রওনা দেন৷

আরও পড়ুন: আড়াই বছর জেল খাটার পর ভোটে দাঁড়াচ্ছে আখলাক হত্যার অভিযুক্ত