নয়াদিল্লি: দলের ফাটল ক্রমশ চওড়া হচ্ছে৷ ভোটের মুখে দল ছাড়লেন আরও এক আপ বিধায়ক৷ যোগ দিলেন বিজেপিতে৷ অর্থাৎ আপের শক্তিক্ষয়ে শক্তি বাড়াচ্ছে বিজেপি৷

সোমবার বিজেপি নেতা বিজয় গোয়েলের উপস্থিতিতে নতুন দলে যোগ দেন আপ বিধায়ক দিভেন্দর কুমার শেরাওয়াত৷ তিনি দিল্লির বিজওয়াসন কেন্দ্রের বিধায়ক৷ অবসরপ্রাপ্ত এই সেনা আধিকারিককে ২০১৬ সালে সাসপেন্ড করা হয়৷ দলবিরোধী কাজের জন্য নেমে আসে শাস্তির খাঁড়া৷ কারণ তিনি মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে চিঠি লিখে দলের বেশ কিছু গোপন কথা ফাঁস করে দেন৷ চিঠিতে লেখেন, পঞ্জাবে দলের নেতাদের একাংশ মহিলাদের টিকিট দেওয়ার নামে ব্যবহার করছেন৷

কিছুদিন আগে শুক্রবার দিল্লিতে বিজেপিতে যোগ দেন গান্ধীনগরের আপ বিধায়ক অনিল বাজপেয়ী। বিজেপির সহ-সভাপতি শ্যাম জাজু এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিজয় গোয়েলের উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। দিল্লি ইউনিটের অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন তিনি। নতুন দলে যোগ দিয়ে আপের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন৷ বলেন,বেশ কয়েক বছর ধরে আপের জন্য কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু উপযুক্ত সম্মান পাননি। তাই এই পথ থেকে সরে এসেছেন।

যদিও আপ অভিযোগ তুলেছিল যে তাঁর দলের বিধায়কদের ভাঙাতে টাকা দিচ্ছে বিজেপি, কিন্তু অনিল বাজপেয়ীর দাবি তিনি কোনও টাকা নেনি। তাঁর দাবি এইভাবে অভিযোগ করাটা কেজরিওয়াকের স্বভাব। বিজয় গোয়েল দাবি করেন, সাতজন নয় ১৪ জন বিধায়কের সঙ্গে বিজেপির যোগাযোগ আছে। প্রত্যেকেই হতাশায় দল ছড়তে চাইছেন। এদিন তিনজন বিজেপি কাউন্সিলরও যোগ দেন বিজেপিতে।

দু’দিন আগেই কেজরিওয়াল দাবি করেন, দল ভাঙনের খেলায় মেতেছে বিজেপি৷ বিধায়কদের কোটি কোটি টাকার প্রলোভন দেখানো হয়েছে৷ যদিও কোনও আপ বিধায়কই বিজেপির পাতা ফাঁদে পা দেয়নি৷

বিজেপির বিরুদ্ধে এই বোমা ফাটান দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ শিশোদিয়া৷ও ট্যুইট করে তিনি জানান, আপের বিধায়কদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিজেপি নেতারা৷ তাদের মধ্যে সাত বিধায়কের প্রত্যেককে ১০ কোটি টাকা করে অফার করা হয়েছে৷ তাই বিজেপিকে বলব মানুষের সমস্যা নিয়ে যেন বিজেপি ভোটে লড়ে৷ বিধায়ক কেনাবেচা করে নয়৷

বিজেপির বিরুদ্ধে আপের ঘোড়া কেনাবেচার অভিযোগ এই প্রথম নয়৷ এর আগেও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ঘর ভাঙার অভিযোগ তোলে৷ ২০১৪ সালে অরবিন্দ কেজরিওয়াল একটি স্টিং অপারেশনের ভিডিও প্রকাশ্যে আনেন৷ সেখানে এক বিজেপি নেতাকে আপ নেতা দীনেশ মোহানিয়াকে চার কোটি টাকা অফার করতে দেখা যায়৷ তার বিনিময়ে দিল্লিতে বিজেপি সরকার গঠনে তাঁর সাহায্য দাবি করেন৷