নয়াদিল্লি: রাজনীতির ময়দানে তাঁরা একে অপরের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী৷ মুখ খুললেই একে অপরকে ছেড়ে কথা বলতে ছাড়েন না৷ কিন্তু এবার সৌজন্যের রাজনীতির দেখা পাওয়া গেল৷ অন্যের বিপদের কথা জানতে পেরেই সঙ্গে সঙ্গে অপরজনের ফোন৷ কথা হল মিনিট পাঁচেক৷ ফোনে কুশল বিনিময় করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী৷

কর্ণাটকে ভোট প্রচারে গিয়ে বিপাকে পড়েন সোনিয়া পুত্র। মাঝ আকাশে বিগড়ে যায় তাঁর বিমান। হঠাৎ একদিকে কাত হয়ে দ্রুতগতিতে মাটির দিকে নামতে শুরু করে বিমানটি। ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র বলেই উল্লেখ করেছে কংগ্রেস। বিমানের পাইলটের বিরুদ্ধে কর্ণাটক পুলিশের কাছে এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা করেছেন রাহুল, দাবি বিজেপির

এই ঘটনার পর কংগ্রেস সভাপতির কাছে প্রথম যে ফোনটি করেন তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ কংগ্রেস সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে৷ ফোন করে মোদী জানতে যান রাহুল ঠিক আছেন কীনা? উত্তরে রাহুল জানান, তিনি ঠিক আছেন৷ প্রধানমন্ত্রীকে গোটা ঘটনাটি খুলে বলেন৷ প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা জানান৷ অর্থাৎ রাহুল গান্ধীর বিমান বিপর্যয়ের ঘটনাটিকে হালকা করে দেখা হবে না বলে বুঝিয়ে দেন তিনি৷

বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে হুবলি যাচ্ছিলেন রাহুল গান্ধী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেসের আরও চার সদস্য। এদের মদ্যে একজন কৌশল বিদ্যার্থী। নয়াদিল্লি থেকে ভিটি-এভিএইচ স্পেশাল বিমানে চেপে হুবলি যাচ্ছিলেন রাহুল। কংগ্রেস সভাপতির অফিস থেকে জানানো হয়েছে, বিমানটি আকাশে ওঠার পর থেকেই যান্ত্রিক গোলযোগের কবলে পড়ে।

 

কৌশল বিদ্যার্থী জানিয়েছেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল ৯.২০টায় বিমান নয়াদিল্লি থেকে টেকঅফ করেছিল। বিমানে এসপিজি অফিসাররাও ছিলেন। ১০টা ৪৫ নাগাদ বিমানটি আচমকা বাঁ-দিকে হেলতে থাকে। দ্রুত গতিতে নিচে নেমেও যেতে থাকে বিমানটি। গোটা বিমানটি ভয়ঙ্করভাবে কাঁপছিল। বাইরের আবহাওয়ায় কোনও গোলমাল ছিল না। কারণ বিমানের জানলা দিয়ে দেখা যাচ্ছিল রোদ ঝলমলে ছিল চারপাশ।

আরও পড়ুন: মাঝ আকাশে কাত হয়ে নামতে শুরু করল রাহুলের বিমান, তারপর!

কৌশল বিদ্যার্থী তাঁর বয়ানে আরও জানিয়েছেন, ‘তিন বারের চেষ্টায় বিমানটি ১১.২৫টায় হুবলি বিমানবন্দরে অবতরণ করতে সফল হয়। মাঝ আকাশ থেকে অবতরণ পর্যন্ত এমন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতায় অধিকাংশ যাত্রী মানসিকভাবে ধাক্কা খেয়েছেন। উত্‍কন্ঠা ও আতঙ্কে ভরা ছিল যাত্রীদের মুখগুলি। এমনকী বিমানকর্মীরা স্বীকার করে নেন যে বিমানটি যে ধরনের আচরণ করছিল তা তারা আগে কখনও প্রত্যক্ষ করেননি। এটা স্বাভাবিক ঘটনা নয়।’

ডিজিসিএ-র ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে, ভিটি-এভিএইচ বিমানটি ড্যাসল্ট ফ্যালকন ২০০০। যার মালিক রেলিগেয়ার এভিয়েশন লিমিটেড। ২০১১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিমানটি রেজিস্ট্রি করা হয়েছিল। ডিজিসি-এ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।