জনজীবন একটু একটু করে ঘুরে দাঁড়াতে চলেছে৷ তবুও বলব পুরী শহরের ফেণী ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব পরবর্তী সময় যেন আরও দুর্বিষহ৷ পানীয় জলের আকাল, বিদ্যুৎ নেই৷ থাকবেও না আগামী ১৫ দিন৷ এমনই অবস্থায় গরমে কাহিল হয়ে কোনরকমে দিন কাটিয়ে সন্ধে নামলে একটু সস্তি হয়৷ চোখের সামনে দেখা সেই ভয়াবহ সমুদ্রের ঢেউ এখন আর নেই৷ বঙ্গোপসাগরের ঢেউ পাড়ে এসে আছড়ে পড়ছে সাধারণ রূপে৷ কিন্তু জনজীবনে পড়েছে জ্বালানী তেলের বিরাট বিরাট ধাক্কা৷

নারায়ণ চৌধুরী:
( GMPR,সানি বিজয় ইন্টারন্যাশনাল)

যে বেআইনি ‘কাটা তেল’ ১০০ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছিল, তার দাম মঙ্গলবার সকালে গিয়ে ঠেকল ২৫০ টাকায়৷ বিকেলের পর থেকে ৩০০ টাকা লিটার পেরিয়ে যাবে৷ যারা পারছেন সেই তেল কিনছেন৷ আর বেশিরভাগই লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পের সামনে৷ কড়া পুলিশের পাহারায় রেশন কার্ড দেখে চাহিদার তুলনায় নামমাত্র পেট্রোল-ডিজেল সরবরাহ করছে প্রশাসন৷ এটা স্বাভাবিক ঘটনা৷ যে ভয়াবহ প্রাকৃতিক ঝড় বয়ে গিয়েছে পুরী সহ ওডিশার উপকূল এলাকায় সেখানে এই অবস্থা যে হবে তা বোঝাই যায়৷

নোটবন্দির সময় ঠিক যেভাবে বিভিন্ন ব্যাংক ও এটিএমের সামনে জনতার লাইন পড়েছিল, সেরমই লাইন পড়েছে এখন পেট্রোল পাম্পের সামনে৷ জল নিতেও বিরাট বিরাট লাইন৷ অথচ প্রকৃতির বিরাট জল ভাণ্ডার ঠিক পুরী শহরের উপকূলে ছড়িয়ে-বঙ্গোপসাগর৷ কিন্তু সাগরের জল তো নোনা৷ সেটা খাবে কে৷ যদি সাগরের জল পরিশুদ্ধ করার প্রক্রিয়া থাকত তাহলে হয়ত কিছুটা সুবিধা হতে পারত৷ আশঙ্কা জলবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার৷ অনেকেই অসুস্থ৷

আজ সকালে আবারও বেরিয়েছিলাম৷ এদিক ওদিক ঘুরে বুঝেছি ধংসের বেলাভূমি পুরীর পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও সময় লাগবে৷ বিখ্যাত জগন্নাথ মন্দির এখনও বিদ্যুতহীন৷ প্রশাসনের তরফে আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে সেখানে একটু আলোর ব্যবস্থা করা যায়৷ কিন্তু বিদ্যুৎ আসার সমস্ত খুঁটি মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে৷ বিরাট সৈকত জুড়ে তেমন কাউকে দেখা যায় না৷ তবে সন্ধে নামলে গরম থেকে স্বস্তি পেতে অনেকেই আসছেন৷ সেখান থেকে দাঁড়িয়ে আলোয় ঝলমলে পুরী শহর দেখেছি কতবার৷ কিন্তু এখন দেখি অন্ধকারে ডুবে থাকা একটা ভুতুড়ে নগরী৷

হোটেলের পরিস্থিতি জানিয়েই দিই৷ সাগরের ঠিক পাড়েই থাকার কারণে ঝড়ের প্রথম ধাক্কায় প্রায় শেষ বিভিন্ন হোটেল৷ আমাদের হোটেলেও একই অবস্থা৷ বিরাট রিসেপশন জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে কাঁচের টুকরো৷ পরিষ্কার করার কেউ নেই৷ চেয়ার-টেবিল উল্টে পড়ে রয়েছে৷ ফেণী ঝড় চলাকালীন যতক্ষণ থাকা সম্ভব ছিল ততক্ষণই এখান থেকে ক্যামেরায় সমু্দ্রের তাণ্ডবের ছবি তুলেছি৷ প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার গতিবেগ নিয়ে আসা ফেণীর সামনে মানুষ কতক্ষণই বা থাকতে পারে৷

প্রশাসনিক উদ্যোগে চলছে বিভিন্ন ত্রাণ শিবির৷ সরকারি সাহায্য বণ্টন হতে শুরু করেছে৷ চাল-আটা-কম্বল আর ১০০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে৷ অভিযোগ উঠছে বিস্তর৷ কিন্তু কিছুই করার নেই৷ বাড়ছে ক্ষোভ৷ তবে ওডিশা সরকার ও কেন্দ্র সরকারের প্রচেষ্টা চলছেই৷ এমনই অবস্থা যে কে কার খবর রাখে৷ দিন এমনই কাটছে৷

যদি ফোন করতে পারছি তাহলে বাড়ির সবার সঙ্গে কথা বলছি৷ আর পুরী শহরের সাম্প্রতিক অবস্থা জানাচ্ছি www.kolkata24x7-কে৷ বাড়ি থেকে দূরে বাংলা থেকে দূরে ওডিশায় বসে প্রত্যক্ষ করছি প্রকৃতির তাণ্ডব৷ দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরুক বিশ্ববিখ্যাত এই সৈকত শহর৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।