নয়াদিল্লি : ভাতে মারছে ভারত। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে যে পরিসংখ্যান মিলেছে, তাতে দেখি গিয়েছে চিন থেকে ভারতে আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণ কমেছে এক ধাক্কায়। ২৪.৭ শতাংশ হারে কমেছে চিনা পণ্য আমদানি। এর জেরে এক বছরে এখনও পর্যন্ত চিনের ক্ষতি হয়েছে ৩২.২৮ বিলিয়ন ডলার।

চিন সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা শুল্ক সম্পর্কিত তথ্যে এমনই জানা গিয়েছে। ভারতের ব্যবসায়ী সংগঠন চিনা পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছিল। সেই দিকে লক্ষ্য রেখে, বেশ কিছুটা এগিয়েছে ভারত, তা বলাই যায়। জুলাই মাসে চিনের রফতানি সামান্য বেড়ে হয় ৫.৬ বিলিয়ন ডলার। তবে জুন মাসে ছবিটা একই ছিল।

সেই মাসে চিনের রফচানি হয় ৪.৭৯ বিলিয়ন ডলার। জুলাইয়ের শেষের দিকে, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড টেলিভিশন সেট ও টিভি যন্ত্রাংশের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। চিন থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের ও ভিয়েতনাম থেকে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের টিভি সেট ও টিভির যন্ত্রাংশ আসত। তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এরই মধ্যে দেশের অন্যতম ব্যবসায়ীদের সংগঠন কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (সিএআইটি) জানায়, গত কয়েক বছর ধরেই এদেশের হোলি কিংবা দেওয়ালি যে কোনও উৎসবের সময় চিনা পণ্যে বাজারে ছেয়ে যেতে দেখা যায়। বিশেষত চিন থেকে আসা ওইসব পণ্য খুবই সস্তা হওয়ায় ক্রেতাদের ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে। ফলে ইদানিং উৎসবের মরসুমে এদেশের পণ্যকে পিছনে ঠেলে দিতে দেখা যায় চিনা পণ্যকে।

ব্যবসায়ীদের সংগঠন সিএআইটি-র দেওয়া তথ্য অনুসারে, প্রায় ৫০ কোটি রাখি বিক্রি হয়ে থাকে যার বাজার মূল্য ৬০০০ কোটি টাকা। এরমধ্যে গত কয়েক বছর ধরে চিনা রাখি বিক্রি হয় ৪০০০ কোটি টাকার এবং বাজারের বাকি ২০০০ কোটি টাকা এদেশের রাখি প্রস্তুতকারীদের দখলে ছিল।

ব্যবসায়ী সংগঠনটি জুন মাসে হিন্দুস্তানি রাখি পালনের ডাক দেয়। এজন্য দেশের ভিতরে রাখি তৈরির দিকে নজর দেওয়া হয়। তার জন্য অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও ব্যবসায়িক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের দিয়ে এই সংগঠনটি নিজেরাই এক কোটি রাখি তৈরি করে।

এছাড়া বহু মহিলা নিজেরাই ঘরে বসে রাখি তৈরি করেন। তাদের তৈরি রাখিও বিভিন্ন রং এবং ডিজাইনের তৈরি হয়। এর ফলে চিন থেকে একটিও রাখি আমদানি করতে হয়নি বলে দাবি করে সিএআইটি। ফলে এবার দেশীয় রাখির দাপটে এবারের মরশুমে চিনের ক্ষতি হয়েছে ৪০০০ কোটি টাকা।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা