সরোজ দরবার: বছরের ‘বেলাশেষে’ টলিউডে লক্ষ্মীলাভ হয়েছে ‘বেগম জান’-এর হাত ধরে। টলিপাড়ায় পূর্ণিমার রোশনাই এনে দিনের বেলা শেষে কোজাগরী তিথিতে ধনদেবীর আরাধনায় রত হলেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।

দিনভর ছিল পরের ছবির কাজ। তবু সব ব্যস্ততা সরিয়ে রাখলেন। কেননা নিজের হাতে লক্ষ্মীপুজো তিনি বরাবরই করেন।আর তাই কোজাগরী পূর্ণিমার তিথি আসার আগেই নিজের হাতেই এবার সাজিয়ে তুললেন প্রতিমা। সাজালেন ফুল, নৈবেদ্যে পুজোর অন্যান্য উপাচারও। হাতে ধরা লক্ষ্মীর পাঁচালি। টলিউডের দাপুটে নায়িকা যেন এক নিমেষে হয়ে উঠেছেন ঘরের লক্ষ্মীমন্ত মেয়েটি। আর মাকে এরকম করে পুজোর কাজ করতে দেখে হাতে হাতে মাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এল একরত্তি ঋষণা।

ছবি: মিতুল দাস
ছবি: মিতুল দাস

এত ব্যস্ততার ভিতরও এই যে পুজোর আয়োজন, কোথা থেকে পান এই শক্তি? ‘মায়ের থেকেই পাই,’ বললেন ঋতুপর্ণা, ‘আমার মনে হয় নারীরূপেই একটা বিরাট শক্তি আছে। মায়ের থেকেই শক্তিটা হয়ত পাই আমরা।’ আর তিনি নিজে যে শক্তির এক বিরাট প্রকাশ এ নিয়ে কোনও সন্দেহই নেই। আসলে তাঁর তো একটা পরিবার নয়। ব্যক্তিগত পরিবারের পাশপাশি আছে এক একান্নবর্তী সিনে-পরিবার। এ পরিবারের মতো ওই পরিবারেও কোজাগরী তাঁর কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ, বলছেন ঋতুপর্ণা। ‘এবছর দুটো ছবি ‘বেলাশেষে’, আর ‘রাজকাহিনী’ ব্লকবাস্টার হয়েছে। দুটো ছবিতেই আমি আছি। মায়ের কাছে এটাই প্রার্থনা করব, এই আশীর্বাদ, এই কৃপা মা যেন আমাদের আরও করেন।’ কোজাগরী পূর্ণিমার মতো এবার বক্সঅফিসেও পূর্ণিমা এনেছে ‘বেগম জান’। তবে কি বেগম জানই এবারের বক্সঅফিসে লক্ষ্মী? ঋতুপর্ণা হেসে জানাচ্ছেন, ‘তা তো বলতে পারব না। তবে এটুকু বলতে পারি বেগম জানকে সকলে দেখেছেন। মানুষের মধ্যে আশার আলো জাগাতে পেরেছে এই চরিত্র। আমি সারা ভারতের অডিয়েন্সের কাছে কৃতজ্ঞ। সারা দেশ থেকে তাঁরা বেগম জানের জন্য আমাকে প্রশংসা করেছেন।’

ছবি: মিতুল দাস
ছবি: মিতুল দাস

তবে এই পূর্ণিমার অপৃপণ আলোর মধ্যেও একটুখানি মনখারাপের কালো দাগ রয়ে আছে। চলে গেছেন ‘বন্ধু’ পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায়। ‘আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না যে, এরকম অবস্থায় পীযূষদা আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন।,’ বললেন বিষাদগ্রস্ত ঋতুপর্ণা।

একরত্তি ঋষণাও এদিন মায়ের সঙ্গে নানা কাজে হাত লাগাচ্ছিল। সেই দেখতে দেখতে তিনিও পাড়ি দিচ্ছিলেন অতীতে। ঠাকুমার হাতে পুজো শেষের বাতাসার জন্য কেমন হাপিত্যেশ করে বসে থাকতেন, সে সব কথাই মনে পড়ে যাচ্ছিল তাঁর। আর তাই তাঁর ইচ্ছে, ‘আমি চাই এই ট্র্যাডিশনটা চলুক।  ছোটবেলায় মা, ঠাকুমাকে দেখেছি লক্ষীপুজো করতে। পরে শাশুড়িমাকে পুজো করতেও দেখেছি। ধারাবাহিকভাবে পরিবারে এই পুজো হয়ে আসছে। তো আমি চাইব, নেক্সট জেনারেশনও যেন সেটা বয়ে নিয়ে যেতে পারে।’

একসঙ্গে তাঁর প্রার্থনা টলিউডেও যেন এই লক্ষ্মীলাভের ধারা বজায় থাকে। ‘ আমার ছবি তো বটেই, অন্য সবার ছবি যেন ভাল চলে। ইন্ডাস্ট্রি যেন আরও বড় হয়।  শুধু কলকাতা কেন, গ্লোবালি যেন আমাদের ইন্ডাস্ট্রির পরিচিতি পৌঁছয়, আজকের দিনে এটাই প্রার্থনা।,’ বললেন ঋতুপর্ণা।

প্রতিবছরই তিনি লক্ষ্মী আরাধনা করেন। তবে শুধু নিজের সমৃদ্ধির জন্য নয়। এ জন্যই তিনি বেগম জান হয়ে টলিউড কোজাগরী আনতে পারেন। আর তাই বোধহয়, বাংলা ইন্ডাস্ট্রির তাঁকে পাওয়া মানে আসলে লক্ষ্মীলাভই।

ছবি-মিতুল দাস