কিনসাসা: উপগ্রহ ছবিতে এবার ভয়াবহ দাবানলের ছবি ধরা পড়ল আফ্রিকায়। কঙ্গোর বনভূমিতে লেগেছে লসেই আগুন। ক্রমে ছড়াচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকার আমাজনের দাবানলের জেরে আন্তর্জাতিক মহল আলোড়িত। এবার মধ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার কঙ্গোর বনাঞ্চল নিয়েও উদ্বেগ বাড়তে শুরু করল।

নাসা স্যাটেলাইট ছবিতে ধরা পড়েছে বিখ্যাত কঙ্গো বেসিন বনভূমির জ্বলতে থাকা এলাকার ছবি। বিশেষজ্ঞদের দাবি, আমাজনের পরে কঙ্গো বেসিন হল পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম চিরহরিৎ বন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, কঙ্গো বেসিনের অন্তর্গত অ্যাঙ্গোলার প্রায় ৬ হাজার ৯০২টি স্থানে আগুন জ্বলছে। আর কঙ্গোতে প্রায় ৩ হাজার ৩৯৫টি স্থানে আগুন ধরেছে।

পরিবেশবিদদের মতে, বিশ্বজুড়ে ক্রমাগত বনে আগুন লাগানোর মাধ্যমে জমি দখল চলছে। বিশেষ করে নিরক্ষরেখা অঞ্চলের বনেই এই ধরনের আগুনের সংখ্যা বেশি। বন ধ্বংস করে সেই অঞ্চল চাষের জমি হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে জড়ি বহুজাতিক সংস্থাগুলি।

এক নজরে বিশ্বের দ্বিতীয় ফুসফুস কঙ্গো বেসিন:

কঙ্গো নদীর দু পাশে বিরাট অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে থাকা বনভূমি। মধ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার ১০টি দেশ জুড়ে বিস্তৃত। এই দেশগুলি হল, অ্যাঙ্গোলা, বুরুন্ডি, ক্যামেরুন, মধ্য আফ্রিকা গণ প্রজাতান্ত্রিক কঙ্গো (ডিআরসি), প্রজাতান্ত্রিক কঙ্গো, রুয়ান্ডা, দক্ষিণ সুদান, তানজানিয়া, জাম্বিয়া আমাজনকে পৃথিবীর ‘ফুসফুস’ বলা হয়। আর কঙ্গো বেসিন বনাঞ্চল বিশ্বের ‘দ্বিতীয় ফুসফুস’ বলে পরিচিত।

আমাজনের বনভূমিতে আগুন লেগেছে মূলত ব্রাজিলের অংশে। তারপর সেটি ছড়িয়েছে। এই দাবানল ঘিরে আন্তর্জাতিক মহল আলোড়িত হয়েছে। জি-৭ বৈঠক থেকে অর্থ সাহায্য করা হলেও ব্রাজিল সেটা প্রত্যাখ্যান করে।

একাধিক সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট, কঙ্গো বেসিনের বিরাট বনভূমিতে যেভাবে আগুন ছড়াচ্ছে তাতে আমাজনের মতোই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে। দাবানল রুখতে কঙ্গো বেসিনের দেশগুলি কী পদক্ষেপ নেয় তাও লক্ষনীয়। কারণ আমাজন অববাহিকার ব্রাজিলের দাবানল রুখতে সে দেশের সরকারের গড়িমসি মনোভাবে দ্রুত ছড়িয়েছে দাবানল।