বিশেষ প্রতিবেদন: মঙ্গলবার সাত সকালেই মাথা ঘুরে গিয়েছিল ইমরান খানের৷ সকালটা শুভ হয়নি৷ পাক প্রধানমন্ত্রীকে কেই সুপ্রভাত বলার সাহসও পায়নি৷ ১২টি মিরাজ-২০০০ বিমান সীমান্ত পেরিয়ে ৭০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে খাইবার পাখতুনখোয়ার বালাকোটে জৈশ-ই-মহম্মদের জঙ্গি শিবির উড়িয়ে গিয়ে চলে গেল৷ অথচ পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের চালকদের তখনও ঘুমই ভাঙেনি৷ সংসদে চাপ, ঘরে বাইরে চাপের মাঝে ইমরানের কাছে দ্বিতীয় খারাপ খবর পৌছাল – চিন পাকিস্তানের পাশে না দাঁড়িয়ে দুই দেশকেই সংযত হয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার বাণী দিয়েছে৷

চিনের বিদেশমন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দিল্লি এবং ইসলামাবাদকে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে৷ তবে পাকিস্তান আশা করেছিল পুলওয়ামা ঘটনার পর চিন যেভাবে মাসুদ আজহারের পাশে দঁড়িয়ে সওয়াল করেছে, এক্ষেত্রেও তাই হবে৷ কূটনৈতিক মহলের মতে, চিন কিন্তু অন্যভাবনা ভেবে রেখেছে৷ রাশিয়া, ভারত, চিনের ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বেজিং৷ এই মুহূর্তে বেজিংয়ের কাছে ইসলামাবাদ গুরুত্বপূর্ণ নয়৷

ইতিমধ্যে বারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, রাশিয়া এবং চিনের বিদেশমন্ত্রীর বৈঠক করতে বেজিংয়ে পৌছে গিয়েছেন৷ চিনও ভারতকে বার্তা দিয়ে বলেছে, উগ্রপন্থার সমস্যা মেটাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কথা বলুক ভারত৷ তবে, পাকিস্তানের ‘যেকোন মরশুমের বন্ধু’ বা ‘all weather ally’ চিন কী চায়? পাক-ভারত যুদ্ধের পরিস্থিতিতে চিনের কী ভূমিকা হবে? ভারতীয় কূটনৈতিক মহলে এই প্রশ্নগুলি খুবই জনপ্রিয়৷ বিভিন্ন কূটনীতিক নিজের মতামতের ভিত্তিতে ভারত-পাক যুদ্ধে চীনের ভূমিকা বিশ্লেষণ করেছেন৷ রয়েছে পরস্পর বিরোধী মতামতও৷ ৬৫, ৭১ এবং ৯৯ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের সময় চিন কী আড়াল থেকে ছায়াযুদ্ধ যুদ্ধ শুরু করেছিল? নাকি প্রতিবেশির ঝামেলা থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছিল? পুলওয়ামায় জঙ্গি হানা ঘটনা এবং সীমান্তে ভারত-পাক যুদ্ধের বাতাবরণে এই প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজার পালা শুরু হয়েছে৷

বছর পাঁচেক আগের কথা৷ চিনের ঐতিহ্যশালী ‘গ্রেট হল অব পিপল’-এ বক্তব্য রাখছেন তৎকালীন পাক প্রধানমন্ত্রী নাওয়াজ শরিফ৷ পাশে সেই সময়কার চিনের প্রিমিয়ার লি কে কিয়াং৷ নাওয়াজ ঘোষণা করলেন, ‘‘পাক-চিন সম্পর্ক হিমালয়ের থেকেও উঁচু, গভীরতম সাগরের থেকেও গভীর, সবচেয়ে মিষ্টি মধুর থেকেও মিষ্টি৷’’ এই উঁচু, গভীর এবং মিষ্টি সম্পর্কের রসায়ণকে পরবর্তীকালে পাক সরকার ‘যেকোন মরশুমের বন্ধু বা all weather ally’ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছে৷

চিন-পাকিস্তান বন্ধুত্বের দিকে তাকিয়ে ভারতীয় সেনাকে যে দুই সীমান্তের লড়াই লড়তে হবে তা ভারতীয় সেনাপ্রধানরা অনেক আগেই ঘোষণা করে এসেছে৷ এক্ষেত্রে সবথেকে প্রয়োজনীয় তথ্য হল, ভারত-পাক যুদ্ধে সরাসরি মাথা না গলালেও পর্দার আড়াল থেকে পাকিস্তানকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে চিন৷ কিন্তু তাতে অবশ্য লাভ কিছুই হয়নি৷ ভারতের কাছে যুদ্ধে শুধু হার নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও মুখ কালো হয়েছে পাকিস্তানের৷

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প